ঢাকা | শুক্রবার | ২১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

বিদ্যুৎ সংকটে সরকারের দায় নেই: জাহেদ উর রহমান

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশের বিদ্যুৎ সংকটের জন্য বর্তমান সরকার পুরোপুরি দায়ী নয়। তিনি উল্লেখ করেন, মানুষ বর্তমানে বেশ কষ্টে আছেন, তাই প্রধানমন্ত্রী তাদের কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এর আগে কিছু দিন আগে বলা হয়েছিল, ‘সব বন্ধ করে দেখাই আগে কি ছিল’, যা এখন অতীতের আলোচনায় এসেছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশন কার্যালয়ের মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, বর্তমান সরকারকে জনগণ বড় একটি জয় এনে দিয়েছে। তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আছে, এবং এ লক্ষ্যে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। এই জন্য আপনাদের (সরকারি কর্মকর্তা) সহযোগিতা দরকার।

তিনি বলেন, বিগত সময়ে যারা সরকারি দায়িত্বে ছিলেন, এরা ছিল এমন একটি সরকারের অংশ যারা দেশের জন্য কিছু করার দায়বদ্ধতা অনুভব করেনি। সেই সরকার চেয়েছে ভবিষ্যতেও ভোট চুরি করে ক্ষমতায় থাকতে। ফলে তারা দেশের জনগণের সেবায় মনোযোগী ছিল না। তবে যদি নির্বাচনের ব্যবস্থা স্বচ্ছ হয়, তবে সরকার সব সময় জনগণের কথা ভাববে।

জাহেদ উর রহমান জানান, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন অতিবাহিত হয়েছে। উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞরা এই সময়ের মূল্যায়ন করছেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় সরকারের সব অংশকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পাঁচ বছরের মধ্যে জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে তাদের কাছে আমাদের সব কাজের হিসাব দিতে হবে। সরকারকে যাতে জনগণের কাছ থেকে মতামত ও প্রতিক্রিয়া অবগত করতে হয়, এ জন্য সকলকে সহযোগিতা করতে হবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা আধুনিক ও গণতান্ত্রিক হোক, জনগণের ইচ্ছা মূল্যায়ন হয় এবং সরকারের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এই উপদেষ্টা আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে শুধুমাত্র ব্যালট পেপার হিসেবেও মূল্যায়ন করেননি। যদি তিনি আমাদের চেহারায় দেখতেন, তাহলে দেশটি আজকের মতো পাল্টে যেত না।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আমাদের শিশু-কিশোররা নানা ধরনের আসক্তিতে ডুবে যাচ্ছে, তাই তাদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন সহপাঠ্য কার্যক্রমে যুক্ত করতে হবে। খেলাধুলা, সংগীত ও নৃত্যসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রা উৎসাহিত করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের শিশু-কিশোরেরা সব ধরনের ক্ষেত্রে উন্নতি করবে। পাশাপাশি, প্রচলিত সার্কাস ও যাত্রাপালা থেকে অপ্রচলিত ও খারাপ বিষয়গুলো সরিয়ে আবারেও সাংস্কৃতিক পরিবেশ পুনরুদ্ধার করতে হবে।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশন আব্দুল মোতালেব সরকারসহ এলাকার আট জেলা প্রশাসক এবং সাংস্কৃতিক কর্মকর্তারা।