ঢাকা | বুধবার | ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

বিনা জামানতে তরুণ উদ্যোক্তাদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ, স্টার্টআপে মাত্র ৪% সুদ

তারুণ্যকে স্বাবলম্বী করে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্যে সরকার সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে—যার আওতায় নতুন উদ্যোক্তারা জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন এবং স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে অর্থায়নের সুবিধা পাচ্ছেন। পাশাপাশি বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও প্রতিজনকে ৫ হাজার টাকা ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা থাকছে, যা উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে ও শুরুতে সহায়তা করতে সহায়ক হবে।

এ সংক্রান্ত তথ্য মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রদান করেন। ওই দিনে সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার যুব সমাজকে আত্মনির্ভরশীল করে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই উদ্দেশ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে যুব ঋণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড’ এবং অর্থ বিভাগের বিভিন্ন তহবিলের মাধ্যমে দেশজুড়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য কম সুদে ঋণের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।

বাজেট বরাদ্দের পরিস্থিতিও তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ‘স্টার্টআপ তহবিল’ খাতে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্টার্টআপ, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির জন্য এই বরাদ্দ দ্বিগুণ করে মোট ৪০০ কোটি টাকার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এসব উদ্যোগ তরুণদের শুরু-ধাপে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে এবং উদ্যোক্তা পরিবেশে স্থিতিশীলতা আনবে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্পর্কে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার সারাদেশে ক্রমান্বয়ে সুবিধাভোগীর সংখ্যা এবং ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। নিম্ন ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতাসহ চলমান সকল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও বরাদ্দ আগামী অর্থবছরে আরও সম্প্রসারণের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

এই উদ্যোগগুলো দেশের যুব শ্রমশক্তিকে উদ্যোক্তায় পরিণত করে বেকারত্ব কমাতে ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে—বিশেষ করে যখন প্রশিক্ষণ, ভাতা ও সহজ শর্তের ঋণ একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে।