টানা পাঁচ সপ্তাহ ঊর্ধ্বগতির পরে মালয়েশিয়ার পাম অয়েলের দাম গত শুক্রবার হঠাৎ করে 크게 পড়েছে, যা প্রায় ১৬ মাসের মধ্যে এই ভোজ্যতেলের সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতন হিসেবে নজর কেড়েছে। বাজারে নেতিবাচক চাপের মূল ব্যাখ্যা হিসেবে উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা ও বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা উঠে এসেছে।
বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে জুন সরবরাহের বেঞ্চমার্ক পাম অয়েল কমে ২.৩৩ শতাংশ বা ১০৮ রিঙ্গিত নেমে দাঁড়িয়েছে এবং দিনশেষে প্রতি টন হয়েছে ৪৪৩৫ রিঙ্গিত। সপ্তাহজোড়া হিসাব করলে দাম পড়েছে ৬.২৮ শতাংশ — যা সম্প্রতি দেখা সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন বলে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন। এতে আমদানি করার নিকটদেশগুলো কিছুটা স্বস্তি পেলেও উৎপাদকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়েছে।
মালয়েশিয়ায় রফতানি বাড়ার ফলে গতি ধরে তিন মাস ধরে মজুদ কমছে। বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক হিসেবে দেশটির মজুদ আছে প্রায় ২১ লাখ ৭০ হাজার টন। তবুও এই ইতিবাচক জোগান-সংকোচন বাজারে দর টেকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে — কারণ এপ্রিল থেকে জুন মাসকে ভরা মৌসুম হিসেবে ধরা হয়, ফলে সরবরাহ আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে এবং তা দামকে আরও নিচে টানতে পারে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অস্থিরতাও বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির ফলে ব্যবসায়ীরা সতর্ক; মৌসুমী উৎপাদন আর রফতানি তাল মেলাতে না পারলে মজুদ আবার বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। মালয়েশিয়ার ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান পেলিনডুং বেস্তারির পরিচালক পারমালিঙ্গম সুব্রামানিয়াম বলছেন, চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী রফতানি আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে — যা বাজারের জন্য ভালো লক্ষণ নয়।
আরও একটি চাপের কারণ হলো আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজার: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির খবরের প্রেক্ষিতে কাঁচা তেলের দাম নেমে আসায় পাম অয়েলভিত্তিক বায়োডিজেলের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের শক্তিশালী অবস্থা বিদেশি ক্রেতাদের জন্য কেনা আরও খরচসাধ্য করে তুলছে, ফলে ভারত ও চীনসহ বড় আমদানিকারকরা আপাতত অপেক্ষা-পর্যবেক্ষণের অবস্থায় রয়েছেন।
মোটMilকথায়, উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা, রফতানির অস্থিরতা, জ্বালানি ও পরিবহন খরচে ওঠানামা এবং রিঙ্গিতের মান—all মিলিয়ে বাজারে ক্রেতা সংকট সৃষ্টি করেছে এবং পাম অয়েলের দরকে নিম্নমুখী করে তুলেছে।








