ঢাকা | সোমবার | ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে ত্রিশালে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

ময়মনসিংহের ত্রিশালে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে। তারা সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে, যেখানে শুধুমাত্র সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৩ জুলাই) সকালে ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনের আয়োজন করে উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন। এতে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বলেন, এতে মেধাবী ও বাসরে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন যা দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে গভীর বৈষম্যের সৃষ্টি করছে। তারা উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি পরীক্ষার সুযোগ রাখা অসম ও অন্যায়। এতে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে তুলবে।

অভিভাবক শফিউল আজম বিপু বলেন, “শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড, অথচ এমন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তে আমাদের মেধাবী শিশুদের ভবিষ্যৎ দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া মানে তাদের শিক্ষাকে হুমকির মুখে ফেলা।”

ত্রিশাল কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আওয়াল বলেন, “১৭ জুলাই মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শুধু সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে, যা এক দেশে দুই নীতির দৃষ্টান্ত। এর ফলে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী এই বঞ্চনার শিকার হবে।”

মানববন্ধনের শেষে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল বাকিউল বারির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলমগীর কবির, যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন লিটন, ত্রিশাল সিটি মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইমরান হাসান বুলবুল, পারফেক্ট মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাইফুল আলম তুহিন, আরক শিক্ষাঙ্গনের প্রধান শিক্ষক এস এম হুমায়ূন কবির, বিদ্যাবাড়ী ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের চেয়ারম্যান দুর্জয় ইসলাম, মৈত্রী বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক সাদিকুর রহমান সাদেক, এবং অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার।

বক্তারা জানান, তাদের দাবি মানা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।