তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বিশ্ব আজ একটি গভীর ও জটিল সংকটে রয়েছে এবং এই পরিস্থিতিতে কোনো একক আদর্শ বা দর্শনই মানবসভ্যতার স্থায়ী সমাধান আনতে পারবে না। বৈচিত্র্য মেনে নিয়ে মুক্ত ও দায়িত্বশীল বুদ্ধিচর্চার মাধ্যমেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি অভিজাত হোটেলে আন্তর্জাতিক গবেষণা, সংলাপ ও জ্ঞানচর্চার প্ল্যাটফর্ম ‘‘আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট’’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশন।
মন্ত্রী আরও বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তি, বিভাজন ও তাত্থ্যবহুল অপ্রমাণিত আলোচনার দ্রুত প্রসারের সময় জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা বিশ্বাসযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট জ্ঞানভিত্তিক আলোচনা ও গবেষণার একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘ভাষা, জাতিসত্তা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম। কোনো এক গোষ্ঠী এককেরূপে বিশ্ব শাসন বা আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না। সব মতাদর্শের গুণ সম্মত স্কলারদেরকে এমন সমাধান খুঁজে বের করতে হবে যা সভ্যতার কল্যাণ আনবে।’’
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত আমাদের সরকার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সব ধরনের বৈচিত্র্য ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে বিশ্বাসী। নাগরিকরা তাদের অবস্থান থেকে মত প্রকাশ করবেন এবং সুস্থ আলোচনা ও আদান-প্রদানের মাধ্যমে মতানৈক্য মিটবে—এটাই প্রকৃত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। আল-উম্মাহ জার্নালের লক্ষ্য আমাদের এই রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’’
আল-উম্মাহ জার্নালকে বাংলা, ইংরেজি, আরবি ও তুর্কি—এই চারটি ভাষায় প্রকাশিত করার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক সংস্কৃতির গভীর বোঝাপড়া আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে সাহায্য করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তুর্কি লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ইয়াসিন আকতাই। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জার্নালের সম্পাদক-ইন-চিফ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
অধ্যাপক ইয়াসিন আকতাই বলেন, মুসলিম বিশ্বের সমৃদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য রয়েছে এবং সেটি সমসাময়িক বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সংযুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। আল-উম্মাহ বিশ্বজুড়ে চিন্তাবিদদের সংযুক্ত করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হবে।
ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত সংযোগ ও সহযোগিতা গড়ে তুলতে এবং মুসলিম উম্মাহর সমসাময়িক চ্যালেঞ্জগুলোর জ্ঞানভিত্তিক সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনীতে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন এবং একটি প্যানেল আলোচনায় মুসলিম উম্মাহর বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব, গণমাধ্যম, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সূত্র: বাসস








