বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে সদ্য জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার বিষয়ক অর্থের লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনের একাংশ নেতারা বলেছেন, এই অভিযোগের প্রধান বক্তব্য হলো সংগঠনটির কিছু শীর্ষ নেতা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আড়ালে প্রায় এক কোটি টাকা সংগ্রহ করে তা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। এই অভিযোগ তারা সংগঠনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশার মাধ্যমে ঢাকাবাসীর কাছে তুলে ধরেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সংগঠনের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। সিনথিয়া বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাধারণ জনগণের সংগঠন। এই সংগঠনের অর্থের অপব্যবহার বা রাজনীতির আড়ালে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের অনুমতি নেই। তারা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কোটি টাকার কোষাগার সংগ্রহ করেছে, বছরের পর বছর এই অর্থ অজigur রাখার চেষ্টা করছে।” তিনি আরও বলেন, ভোটের জন্য প্রচার চালানোর সময় থেকেই অর্থের উৎসের বিষয়ে প্রশ্ন উঠছিল। তবে সংশ্লিষ্ট নেতারা কোনও লিখিত নথি বা প্রামাণ্য দায় দেখাতে পারেননি। সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বৈঠকের আসন্ন সভায় উপস্থিত কিছু নেতৃস্থানীয় সদস্য তাদের মোবাইল ফোন রেখে দিয়ে পরে মৌখিকভাবে অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে কত টাকা এসেছে, তার সঠিক হিসাব বা প্রমাণ দেখানো হয়নি। পাশাপাশি সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটিগুলো কীভাবে অন্ধকারে রেখে বন্ধায় দেওয়া হয়েছে, এবং একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সরকারি অনুদান গ্রহণ করে তার অপব্যবহার হচ্ছে—এসব বিষয়েও তারা অভিযোগ করে বলেন। তারা বর্তমান সরকারের দ্রুত নজরদারী ও অডিটের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও তদারকির জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে হবে। সিনথিয়া মূলত বলেন, “সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ জানালে, তাদের বিরুদ্ধে অর্থ দাবি করার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমরা কখনো কোনো আর্থিক সুবিধা চাইনি। যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন যে, আমরা কোনো অর্থ দাবি করেছি, তাহলে দেশের বিচারমন্ত্রী ও আইন ব্যবস্থা উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে।” তারা সংগঠনের পুনর্গঠনের জন্য দ্রুত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নতুন কাউন্সিল আয়োজনের দাবি জানান। নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, গণতান্ত্রিক ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচন এবং সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে—এমন বিষয়েও জোর দেন বক্তারা। পাশাপাশি, তারা অর্থের উৎস ও ব্যয়ের সম্পূর্ণ অডিট প্রকাশের জন্য গুরুত্ব দেন এবং বলেন, “গণভোটের অর্থের উৎস ও ব্যয়ের হিসাব অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।” অভিযুক্ত নেতাদের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।









