ঢাকা | রবিবার | ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আটকে পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অনিশ্চয়তার প্রেক্ষিতে সেখানে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকালে সচিবালয়ে এসে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেন এবং পরিস্থিতি খুঁটিয়ে জানার পর সবরকম সহায়তা নিশ্চিত করতে জরুরি নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে গমনকারী অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এই পরিস্থিতি মনিটরে রেখেছেন এবং আটকে পড়া রেমিট্যান্স প্রেরণকারী প্রবাসীদের দেখভালের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

তার নির্দেশনায় বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সরাসরি কাজ করছে। বিশেষ করে বিমান প্রতিমন্ত্রী সকাল থেকেই বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে আটকে পড়া যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য, খাদ্য ও অন্যান্য প্রাথমিক সুবিধা নিশ্চিত করার তত্ত্বাবধান করছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে এবং প্রবাসী সহায়তায় ২৪ ঘণ্টা হটলাইন চালু রাখা হয়েছে।

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিনটি ছিল বহুকাজে ব্যস্ত। তিনি সকাল ৯টা ১০ মিনিটে অফিসে এসে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সঙ্গে বৈঠকে তিনি ভূমিকম্প-সংক্রান্ত প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেন। বিশেষত ঢাকাসহ সারাদেশে ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের এবং জরুরি উদ্ধারকাজের জন্য দ্রুত এক লাখ দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনে গুরুত্ব আরোপ করেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছাসেবক তৈরির প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কথা বলেন। তিনি নির্দেশ দেন যাতে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো ঝুঁকি না সৃষ্টি হয় এবং প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সময়ে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানসহ গৃহীত কর্মসূচিগুলো পরিচালনা করার মাধ্যমে প্রশাসনের কাজকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি ও কূটনৈতিক হটলাইনগুলো সক্রিয় রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে সংশ্লিষ্ট দফতর ও দূতাবাসগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতির বাৎসরিক মনিটরিং রাখছেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করে যাচ্ছেন।