কোরবানির ঈদের পর থেকে দেশের বাজারে চালের দাম ক্রমশ বেড়ে চলেছে। একই সঙ্গে গত দুই সপ্তাহ ধরে সবজির দামও স্থির না থেকে ঊর্ধ্বমুখী চাপ অনুভব করছে। তবে মুরগি ও ডিমের দামে সামান্য কমতি লক্ষ্য করা গেছে। শুক্রবার ঢাকা শহরের বিভিন্ন বাজারে গিয়ে এ চিত্র স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, ইলিশের ভরা মৌসুম যদিও শুরু হয়েছে, তবু সাধারণ ক্রেতারা এখনও ইলিশের স্বাদ নিতে পারছেন না। রাজধানীর বাজারে এক কেজি ইলিশ মাছ কিনতে হলে খরচ করতে হয় ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা, যা প্রায় চার কেজি গরুর মাংসের দাম সামান্য বেশি। তাই মধ্যবিত্ত শ্রেণির অধিকাংশ পরিবারের জন্য ইলিশ এখন একপ্রকার বিলাসিতা। অন্যান্য মাছের দামও তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশিই রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভরা মৌসুম সত্ত্বেও এবার ইলিশের সরবরাহ স্বল্প হয়েছে। সমুদ্র বা নদীতে ইলিশ প্রচুর ধরা পড়ছে না, যার ফলে এর দাম বেড়ে গেছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, চালের দাম প্রধানত মোড়ক বাজারগুলোতেও বাড়তে শুরু করেছে। চালকল মালিকরা ঈদের পরে চালের দাম বাড়িয়েছেন, যার ফলে প্রতি বস্তার দাম ৪০০ টাকা পর্যন্ত ঊর্ধ্বগতি পেয়েছে। এখন প্রতি কেজি চাল, মানভেদে, ২ থেকে ৮ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মোটা চাল (বিআর-২৮, পারিজা) কেজিপ্রতি ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা, সরু চালের মধ্যে জিরাশাইল কেজি ৭৪ থেকে ৮০ টাকা এবং মিনিকেট ৭৬ থেকে ৮৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাটারিভোগ চাল ৭০ থেকে ৭৬ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
মোহাম্মদপুরের এক চাল ব্যবসায়ী জানান, নাজিরশাইল ব্যতীত পাইজাম, বিআর-২৮ ও মিনিকেট চালের দাম কেজিপ্রতি ৮ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, “আগে ৬৮ টাকায় পাইকারিতে যে মিনিকেট চাল কিনতাম, গত শুক্রবার সেটি কিনেছি ৭৬ টাকায়।”
ছোট বাজার ও পাড়া এলাকার মুদি দোকানে চালের দাম আরও একটু বেশিই। রামপুরা বাজারের চাল বিক্রেতা জুবায়ের জানান, ঈদের পর থেকে চালের প্রতি বস্তার দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনাজপুর, নওগাঁ ও কুষ্টিয়া সহ অন্যান্য অঞ্চলেও চালের দাম বাড়ছে।
সবজির দিক থেকে, বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ধন্দুল ৮০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা এবং ঢেঁড়স ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া পটল ৬০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ টাকা, টমেটো ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, গাজর ১৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা এবং আলু কেজিপ্রতি ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
রাজধানী শান্তিনগর বাজারে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজারে এসেছে বেশিরভাগ সবজির দাম বৃদ্ধি। একজন বেসরকারি চাকরিজীবী বায়জিদ জানান, “কয়েকদিন ধরে সবজির দাম বাড়ছে, আজও একটু বেশি দামে সবজি কিনলাম। এর আগেও দাম কম ছিল, কিন্তু গত দুই সপ্তাহে দাম বেড়েছে।”
মিরপুর ৬ নাম্বার বাজারের সবজি বিক্রেতা জসিম বলেন, “অনেক সবজির মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বাড়ছে। নতুন মৌসুম শুরু না হওয়া পর্যন্ত দাম একটু বেশি থাকবে।”
ঈদের পরে মুরগির দাম ক্রমশ কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে। সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা পর্যায়ে রয়েছে।
ডিমের দামও প্রতি ডজন ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় নেমে এসেছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, এটি ডিম উৎপাদনকারীদের জন্য ক্ষতির কারণ। এক বিক্রেতা বিপুল হোসেন জানান, “যদি ডিমের দাম ১৪০ টাকার নিচে থাকে, তবে খামারিরা লাভবান হন না। এবার দাম এত কমে তাদের লোকসান হচ্ছে।”
অন্যদিকে, মুদি পণ্যের দাম খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। তেল, চিনি, ডাল, আটা, ময়দা, সুজি আগের মতোই ক্রয় করা যাচ্ছে। পেঁয়াজ, আলু, আদা, রসুনসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যও তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।








