রাজধানীর উত্তরা এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে এই দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৯ জনে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাত সোয়া ১২টার দিকে নাফিস নামের ওই ৯ বছর বয়সী শিশু মারা গেছে। নাফিস ছিলেন এমন শিশুদের একজন, যারা বিমান দুর্ঘটনার সময় দেগে শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গুরুতর আহত হয়েছিল এবং বর্তমানে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল।
সোমবার(২১ জুলাই) দুপুরে কুর্মিটোলার বিমানবাহিনী ঘাঁটি থেকে প্রশিক্ষণ উদ্দেশ্যে ওড্ডয়ন করা বিমানটি কিছুক্ষণ পর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দোতলা ভবনে বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল বিমান বাহিনীর চীনের তৈরি F-7 BGI যুদ্ধবিমান। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুল ভবনে আছড়ে পড়ে এবং বিধ্বস্তের সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে আগুন জ্বলে ওঠে।
এই দুঃখজনক ঘটনায় প্রায় দেড়শতাধিক ব্যক্তি হতাহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই শিশু। আহতদের বেশিরভাগই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তাদের শরীর মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান এক ব্রিফিংয়ে জানান, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪৪ জন রোগীর মধ্যে ১০ জন শঙ্কামুক্ত, তবে বাকিদের অবস্থা সন্তোষজনক নয়। এ সময় তিনি আরও বলেন, মোট আহতদের মধ্যে ৬৭ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
আইএসপিআর এর তথ্য অনুসারে, নিহতের সংখ্যা ৩১ এবং আহতের সংখ্যা ১৬৫ জন, তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এর কিছুটা ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে, যা জনসাধারণের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়াও, মৃতদের মধ্যে ২২ জনের পরিচয় শনাক্ত করিয়া তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ছয়টি অজ্ঞাত পরিচয় লাশ এখনও মর্গে রয়েছে, যার পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ডিএনএ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা দেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে দ্রুত পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।
মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনাটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা, যা দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মৃত ও আহত সকলের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি ও দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।








