চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে আগামী রবিবার (২২ জুন) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল চীন সফরে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বিএনপির মিডিয়া সেল সদস্য সৈয়দ সায়রুল কবীর খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি বিএনপিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং দলীয় পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা। মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে সফরে অংশ নেবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির চার সদস্য – মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বেগম সেলিমা রহমান এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এছাড়াও প্রতিনিধিদলে আছেন চেয়ারপারসনের তিন উপদেষ্টা – জহির উদ্দিন স্বপন, ইসমাইল জাবিউল্লাহ, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং দলের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল।
সফর শুরু হতে যাওয়ার আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রতিনিধিদল ঢাকায় চীনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে চীনা দূতাবাসে সাক্ষাৎ করবেন। দলের অভ্যন্তরীণ তথ্য সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে চীনকে বিবেচনা করে বিএনপি চীনとの সম্পর্ক জোরদার করার প্রত্যাশা রাখে। বাংলাদেশে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপিকে অনেক পর্যবেক্ষক ‘প্রতীক্ষমাণ সরকার’ হিসেবে দেখছেন, যা পরবর্তী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপি নেতাদের মতে, এই সফর চীনের বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়াসের অংশ। গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর থেকে চীন বাংলাদেশের বিএনপি, নবগঠিত এনসিপি এবং কিছু ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করেছে।
এর আগে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার ও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আটটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে গঠিত একটি ২১ সদস্যের ‘অনন্য’ প্রতিনিধিদল ১১ দিনব্যাপী সফরে চীন গিয়েছিল। ওই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন যে, গত বছর আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে বহুদলীয় সম্পর্ক জোরদারের কৌশলের অংশ হিসেবে এই সফর আয়োজন করা হয়েছিল। ১১ দিনের সফরের সময় ওই প্রতিনিধিদল বেইজিং, শানশি ও ইউনান প্রদেশে সিপিসির কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।








