জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, আমাদের দেশের অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪শে ফেব্রুয়ারির রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানকে অবজ্ঞা করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এই ইতিহাস থেকে বিচ্যুত না হয়ে আমরা আমাদের সামনের পথের দিক নির্ধারণ করব।
আজ সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ষোড়শ দিনের আলোচনার শুরুতে তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনা শুরুতেই তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, দীর্ঘ ৫৩ বছরের সংগ্রাম এবং গত বছরের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান, যা রক্তপাত ও প্রাণহানি নিয়ে এসেছে, তা দুধর্ষভাবে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথ সবার সম্মিলিত এই সংগ্রাম ও শোকাবহ ইতিহাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রতিদিনের আলোচনার শুরুতে আমরা যাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করি তারা হলেন আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা। এ যুদ্ধে তাদের অবদানের কারণে আমরা আজ স্বাধীন ও স্বাধীনতা বিরাজিত বাংলাদেশের অধিবাসী। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি এবং আমাদের অর্জিত সকল সাফল্য ও ব্যর্থতার ঊর্ধ্বে এই সংগ্রামের মহিমা রয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ আর প্রাণের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছি এবং রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ করেছি।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য বিকট সংগ্রাম কালীন সময়ে আমাদের দেশে এক অন্ধকার ও খণ্ডিত ফ্যাসিবাদী শাসন ছিল যা থেকে মুক্তি পেতে আমরা সবাই মিলিত হয়ে সংগ্রাম করেছি। এই পটভূমি তাঁরা জাতীয় ঐকমত্য সনদের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করবেন বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
দ্রুত রাষ্ট্রীয় ঐকমত্য সনদ গঠনের জন্য সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনার মাধ্যমে দ্রুত ফলপ্রসূ অপশনে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘‘আমাদের যদি ৩১ তারিখের মধ্যে ঐক্যভুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাহলে হাতে মাত্র ১০ দিন সময় বাকি আছে। এই সময়ের মধ্যে আলোচনায় কিছু বিষয়ের জন্য অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ করা যেতে পারে, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবশ্যই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা প্রথম থেকেই ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ বা মতানৈক্যের নথি রাখছি, যার ফলে কেউ দ্বিমত পোষণ করলেও সেটি জাতীয় সনদে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে।’’
কমিশনের ওপর আরেকটি গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন নিয়ে, যার বিষয়ে তাদের মতামত শীঘ্রই জানানো হবে।
গতকাল তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে আলোচনার পর, অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, কমিশনের প্রস্তাবিত সংশোধনাগুলোর প্রতি অধিকাংশের সম্মতি রয়েছে; যদিও কিছু বিষয় নিয়ে কিছু অংশের দ্বিমত থাকতে পারে। আজকের আলোচনায় দ্রুত পরামর্শ করে এসব একমত করার চেষ্টা করা হবে।
সর্বশেষে, রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিক অংশগ্রহণ ও প্রচেষ্টায় দ্রুত ঐকমত্যের ফলাফল আসবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
বৈঠক সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। এতে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং ড. আইয়ুব মিয়া।
আজকের আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।







