ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ ঘটনা: জুলাই অভ্যুত্থান — মনির হায়দার

প্রধান উপদেষ্টা ও সাংবাদিক মনির হায়দার বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের পর দেশে সবচেয়ে বড় এবং স্মরণীয় ঘটনা হলো জুলাই অভ্যুত্থান। গত ৫৩ বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে এরপর আর এমন বিশাল সামরিক ও রাজনৈতিক ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনাটি শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও এর মতো বিরল। এমন এক পরিস্থিতি তৈরী হয়েছিল যখন সরকার, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা এমনকি মসজিদের ইমামরাও পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।

আজ শনিবার বিকালে গাংনী মিনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জুলাই অভ্যুত্থান ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মনির হায়দার এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, জুলাইয়ের পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ অন্যান্য দল থাকবে, অথচ ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ আর বাস করতে পারবে না। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একাত্মতা জরুরি এবং এই দৃষ্টিভঙ্গিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মনির হায়দার বলেন, “আমরা কারো শত্রু নই, আমাদের একমাত্র শত্রু হলো ফ্যাসিবাদ।”

মনির হায়দার ফুটবল টুর্নামেন্টকে শুধু একটি খেলা হিসেবে না দেখে এটিকে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, জুলাই ২৪ আমাদের শিখিয়েছে যে, ২০২৪-এর আগে ও পরে বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে রাত-দিনের মতো পার্থক্য থাকবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণকে জুলাইয়ের মতো ঘটনা স্মরণ রাখতে এবং সেই আন্দোলনের আদর্শকে চিরকাল এগিয়ে নিতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ, গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামসুল আলম সোনা এবং গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলুসহ অন্য সদস্যরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মনির হায়দার দুই দলের ফুটবল খেলোয়াড়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং কিক দিয়ে খেলার উদ্বোধন করেন।

হাজার হাজার নারী-পুরুষ উন্মত্ত উৎসাহে ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করেন, যার মাধ্যমে ঐক্যের বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে।