ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মুরগি ও ডিমের দাম কমলেও চালের বাজারে ভাঁটছে ঘাম

কোরবানি ঈদ শেষ হওয়ার পর বাজারে মুরগি ও ডিমের দাম কিছুটা কমেছে, যা ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর। একই সঙ্গে সবজির দামেও বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। কিন্তু অন্যদিকে, চালের দাম বাড়ার সঙ্গে ক্রেতারা কিছুটা উৎকণ্ঠায় পড়েছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে গতকাল শুক্রবার বাজারঘাটে গিয়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোটা চাল যেমন বিআর-২৮ ও পারিজার দাম বর্তমানে প্রতি কেজি ৫৮ থেকে ৬২ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। সরু চালের মধ্যে জিরাশাইল ৭৪ থেকে ৭৮ টাকা, মিনিকেট ৭৬ থেকে ৮০ টাকা এবং কাটারিভোগ ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পুরান ঢাকার নয়াবাজারের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী নিজাম জানান, ঈদের পর থেকে চালের দাম বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘ধানের দাম বাড়ায় চালের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।’

অলিগলির ছোট মুদি দোকানগুলোতেও চালের দাম কিছুটা বেশি। বংশাল এলাকার মুদি দোকানদার মজিদ মিয়া বলেন, ‘আমাদের দোকানে পাওনা বেশি থাকে, এজন্য ইনভেস্টমেন্ট বেশি করতে হয়, ফলে দাম বাড়তি হয়।’

যদিও চালের দাম বাড়ায় ক্রেতারা কিছুটা অসস্তিতে রয়েছেন, মুরগি, ডিম এবং সবজির দাম কমে আসায় তা কিছুটা স্বস্তি পেতে সাহায্য করেছে। পেঁয়াজ, আলু ও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের দামও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি ১৫০ টাকায় নেমে এসেছে, যেখানে ঈদের আগে দাম ছিল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। ডিমের দামও প্রতি ডজন ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় নেমেছে। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদ পর বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কমেছে এবং চাহিদাও কমে গিয়েছে, তাই দাম কমেছে।

বাজারে আসা ক্রেতারা জানান, কোরবানির মাংস অনেকের ঘরে এখনও বিদ্যমান, যার কারণে ডিম ও মুরগির চাহিদা কমেছে। তবে তারা আশঙ্কা করছেন ভবিষ্যতে আবার চাহিদা বাড়লে দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।

পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার ও নয়াবাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দামও কিছুটা কমে এখন ২৬০ থেকে ২৮০ টাকার মধ্যে। মাছের বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না থাকলেও বড় ইলিশ ও অন্যান্য মাছের দাম তুলনামূলক বেশি রয়েছে।

সবজির বাজারেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। পুঁইশাক, বেগুন, পেঁপে, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গে ও মিষ্টি কুমড়ার দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে, যা ঈদের আগের তুলনায় ১০ থেকে ৪০ টাকা কম। বড় বাজারের তুলনায় ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে দাম আরও কম।

মোটকথা, মুরগি ও ডিমের দামে হ্রাস থাকলেও চালের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের মাঝে দ্বন্দ্ব অবশিষ্ট রয়েছে, তবে সবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণে থাকার খবর অনেকে স্বাগত জানিয়েছে।