হলিউড অভিনেতা ম্যাথু পেরির মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ‘কেটামিন কুইন’ হিসেবে পরিচিত জাসভিন সাংঘাকে আদালত ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে এবং জানায়, ওই নারীর কাছ থেকে সংগৃহীত কেটামিন সেবনের তীব্র প্রভাবেই ৫৪ বছর বয়সী এ অভিনেতার মৃত্যু ঘটে।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে লস এঞ্জেলেসের নিজের বাড়ির হট টাবে ম্যাথু পেরির অচৈতন্য দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা পরে নির্ধারণ করেন যে তার শরীরে কেটামিনের অত্যধিক প্রভাব ছিল এবং সেটিই মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়।
আটকের পর তদন্তে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক জাসভিন সাংঘার নর্থ হলিউডের বাড়িটি একটি মাদক বিক্রির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে থেকে সমাজের বিত্তবান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য সরবরাহ করার অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে সাংঘা আদালতে তার বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল কেটামিন সরবরাহের মাধ্যমে মৃত্যু বা শারীরিক ক্ষতিসাধনের দায়। কেটামিন একটি ডিসোসিয়েটিভ অ্যানেস্থেটিক, যার কিছু হ্যালুসিনোজেনিক প্রভাব রয়েছে এবং সাধারণত এটি শুধুমাত্র চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপদ ধরা হয়।
সাজার আগে মামলার শুনানিতে ম্যাথু পেরির সৎমা ডেবি পেরি বিচারকের কাছে সাংঘার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। রায় ঘোষণা করার সময় বিচারক বলেন, সাংঘাকে তার কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে এবং গ্রেপ্তারের পর থেকে তার আচরণে প্রকৃত অনুশোচনার অভাব দেখা গেছে। একই সময়ে সাংঘা কণ্ঠ ভেঙে আদালতে স্বীকার করেন যে তার ভুল সিদ্ধান্ত বহু মানুষের জীবন ধ্বংস করেছে; তিনি নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য ‘গভীর লজ্জা ও দুঃখ’ প্রকাশ করেন।
ম্যাথু পেরি ১৯৯৪ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রচারিত বিশ্বখ্যাত সিটকম ‘ফ্রেন্ডস’-এ চ্যান্ডলার বিং চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। দীর্ঘকால ধরেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে মাদকাসক্তি ও পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই করে গেছেন। এই রায় বারবার মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করা মাদক সরবরাহ ও তার ফলাফল সম্পর্কে আইনগত জবাবদিহি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সে প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে।








