ঢাকা | সোমবার | ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ম্যারামুশ জাদুতে হালান্ডবিহীন ব্যাটেল জেতালো ম্যানসিটি, এফএ কাপের শেষ আটে

ম্যানচেস্টার সিটি মারমুশের অসাধারণ পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে ভক্তদের হাসি হাসিয়েছে। দলের প্রধান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডকে না থাকলেও তাদের কর্তিত্ব ও শক্তি কমেনি। হালান্ডের বিকল্প হিসেবে মাঠে নামে মিশরীয় ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশ, যিনি নিজের দক্ষতায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যান। তার দুর্দান্ত একের পর এক জোড়া গোলে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে এফএ কাপের শেষ আটে পৌঁছায় পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। পুরো ম্যাচে প্রমাণ হয়েছে কেন সিটি এখন ফুটবলের এক অন্যতম অপ্রতিরোধ্য দল।

এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডের এই ম্যাচের শুরুতে নিউক্যাসলের আক্রমণাত্মক খেলায় সিটির জন্য কিছুটা কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাজিলিয়ান তারকা সাভিনহোয়ের সমতাসূচক গোলটি ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় মারমুশের দুর্দান্ত শো। চমৎকার ফিনিশিংয়ে তিনি দুটি গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। বিশেষ করে তার করা ১৪ গোলের অর্ধেকই এসেছে নিউক্যাসলের বিপক্ষে, যা এক অনন্য পরিসংখ্যান। ৭৩ মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় কোচ গার্দিওলা তাকে জড়িয়ে ধরে বাহবা দেন, তাকে একজন ‘শীর্ষ স্ট্রাইকার’ হিসেবে অভিহিত করেন।

এফএ কাপের এই মরশুমে ম্যানসিটির পারফরম্যান্স সত্যিই বিস্ময়কর। শেষ ২১ ম্যাচের মধ্যে তারা ১৯টিতে জিতেছে। শুধুমাত্র গত দুই বছরের ফাইনালে পরাজয়ই তাদের হার এড়াতে দেয়নি। দল সাজানোর জন্য বিভিন্ন পরিবর্তন করেও তারা খেলছে এক অনন্য রকম, যা দেখলে মনে হয় তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠা এখন খুব সহজ হবে।

প্রতিযোগিতার অন্য দিকেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে আরেক দুই দল—আর্সেনাল ও চেলসি। গানাররা প্রায় ৯৭ বছর পর প্রথমবারের মতো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাঠে গিয়ে ২-১ গোলের কষ্টার্জিত জয় পায়। এই জয়ে আরসেনাল চারটি শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ধরে রেখেছে। অন্যদিকে, চেলসি রেক্সহ্যামকে হারাতে বেশ বেগ পেতে হয়। নির্ধারিত সময়ে সমতা থাকা অবস্থায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, যেখানে ব্লুজরা ৪-২ ব্যবধানে জিতেছে। সব মিলিয়ে, এফএ কাপের নকআউট পর্ব এখন চরম উত্তেজনার অপেক্ষায়।