ঢাকা | সোমবার | ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

রাষ্ট্র সংস্কারে সব বিষয়ে একমত হবে না: অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে জুলাইয়ের অভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল একমত নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, ‘‘ভুলবোঝাবুঝি বা বিভ্রান্তি এড়াতে আমরা আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি এবং রাজনীতিবিদদের বক্তব্য ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করার চেষ্টা করছি।’’

সোমবার (৭ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের দশম দিনের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কমিশনটির সভাপতিত্ব করছেন অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ, সদস্য হিসেবে রয়েছেন জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী, পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফররাজ হোসেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান বিচারপতি এমদাদুল হক এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান।

আলী রীয়াজ বলেন, ‘‘দলের সঙ্গে আলাদা আলাদা আলাপচারিতায় আমি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি, কমিশনের যেসব প্রস্তাব আছে, সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব নয়। আমি বারবার বলেছি, সব বিষয়ে সম্মতি একসঙ্গে পাওয়া যাবে না।’’

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘‘জাতীয় সাংবিধানিক কমিশন সংক্রান্ত প্রথম প্রস্তাবনায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আপত্তি জানিয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে সংশোধিত একটি প্রস্তাব এনেছি যা নতুন নয়, সংশোধিত সংস্করণ। কাঠামোগত পরিবর্তনের জোর দেয়ার জায়গাগুলোতে আমরা তাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কাজ করছি।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘মূলনীতির ক্ষেত্রে বহুত্ববাদ নিয়ে অনেক আপত্তি ছিল, যা দ্বিতীয় সংশোধিত প্রস্তাবে নেয়া হয়নি। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে চারটি প্রদেশ হওয়ার বিষয়ে ভোটাভুটিও প্রাথমিকভাবে বেশিরভাগ দল একমত হয়নি। তাই এই বিষয়গুলো আলোচনায় আসেনি।’’

আলী রীয়াজ বলেন, ‘‘অনেক বিষয় বাদ দিয়ে অগ্রসর হতে হচ্ছে, কারণ সব বিষয়ে সম্মতি পাওয়া সম্ভব নয়। তবে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য করা সম্ভব, সেগুলো নিয়ে এগোনোর চেষ্টা করতে হবে।’’

তিনি জানান, ‘‘আলোচনায় কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে, কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, আবার কিছু বিষয়ে এখনো আলোচনাই হয়নি। তবে যেসব বিষয়ে প্রাথমিক ঐকমত্য হয়েছে সেগুলো আজকে আলোচনা হয়নি। রাজনীতিবিদরা প্রত্যেকে অবস্থান অনুযায়ী কথা বলছেন, তবুও সবাই ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।’’

সময়ের স্বল্পতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘আমার পরিকল্পনা ছিল এই সপ্তাহেই আলোচনা শেষ করা, কিন্তু দলের সাংগঠনিক কাজের ব্যস্ততার কারণে হয়তো আরো একদিন বসতে হবে। আগামী সপ্তাহে শহীদ আবু সাঈদ ও মুগ্ধের শাহাদাতবার্ষিকীসহ বিভিন্ন কর্মসূচি থাকায় সময় বের করে বৈঠক চালিয়ে যেতে হবে।’’

রাজনীতিবিদদের উদ্দেশ্যে আলী রীয়াজ বলেন, ‘‘দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের কথাও বিবেচনায় নিলে সকলের কাজের অগ্রগতি আশা করা যায়।’’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘‘আমরা আলোচনা শেষ করে নতুন সংশোধিত প্রস্তাব তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যা তাদের অবস্থান ধারণ করবে। আমাদের উদ্দেশ্য হলো বিভ্রান্তি এড়ানো এবং সবাইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করা।’’