ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রাষ্ট্র সংস্কারে সর্বদা একমত হওয়া সম্ভব নয়: আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়ে সকল রাজনৈতিক দল একমত হওয়া সম্ভব নয়। তিনি মন্তব্য করেন, ‘‘ভুলবোঝাবুঝি কিংবা বিভ্রান্তি এড়াতে আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি। রাজনীতিবিদদের বক্তব্য ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রস্তাব তৈরি করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।’’

সোমবার (৭ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নিয়ে অনুষ্ঠিত দশম দিনের আলোচনা সভায় এই কথাগুলো বলেন তিনি। এই আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সভা সভাপতিত্ব করছেন ড. আলী রীয়াজ। কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী, পুলিশ সংস্কার কমিশন প্রধান সফররাজ হোসেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন প্রধান বিচারপতি এমদাদুল হক এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান।

ড. রীয়াজ জানান, ‘‘দলের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করার সময় স্পষ্ট জানানো হচ্ছে যে, কমিশনের সব প্রস্তাব নিয়ে একমত হওয়া অবাস্তব। আমি বারবার উল্লেখ করেছি যে, সব বিষয়ে একমত হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।’’

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘‘জাতীয় সাংবিধানিক কমিশন (এনসিসি) প্রস্তাব নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আপত্তি জানিয়েছে। তার ভিত্তিতে আমরা সংশোধিত একটি প্রস্তাব এনেছি যা নতুন নাও হতে পারে, তবে পরিবর্তিত এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘বহুত্ববাদের নীতিগত বিষয় নিয়ে দলগুলোর আপত্তি ছিল। নতুন সংস্করণে তা রাখা হয়নি। জনপ্রশাসন সংস্কারে চার প্রদেশ সংক্রান্ত প্রস্তাবে বেশিরভাগ দল একমত হয়নি, তাই সেই বিষয়ে আলোচনাই হয়নি।’’

তিনি বলেন, ‘‘অনেক বিষয় বাদ দিয়ে অগ্রসর হতে হবে, কারণ সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব নয়। তবে আমরা চেষ্টা করছি, যেসব বিষয়ে ঐকমত্য সম্ভব সেগুলোয় এগিয়ে যাওয়ার।’’

ড. রীয়াজ বলেন, ‘‘আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, আবার কিছু বিষয় এখনো বাকি আছে। তবে প্রাথমিক ঐকমত্য থাকা বিষয়গুলো এখনও আলোচনায় আনিনি, কারণ রাজনীতির গতিবিধি অনুযায়ী প্রত্যেকে তার অবস্থানে রয়েছেন।’’

তিনি সময়ের সীমাবদ্ধতার বিষয়েও উল্লেখ করে বলেন, ‘‘এই সপ্তাহে মূলত সাংগঠনিক কাজ ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের জন্য সময় রাখা হয়েছে, তবে দলগুলোর অনুরোধে সম্ভবত আর একটি দিন বসব। আগামী সপ্তাহে শহীদ আবু সাঈদ ও মুগ্ধের শাহাদাতবার্ষিকীসহ অন্যান্য কর্মসূচি থাকলেও আমাদের আলোচনাকে অব্যাহত রাখতে হবে।’’

ড. আলী রীয়াজ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও নেতৃবৃন্দকে কাজের অগ্রগতি ও ঐকমত্য অর্জনের জন্য সাংগঠনিক কর্মসূচির পাশাপাশি ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘‘আলোচনার পর আমরা সংশোধিত প্রস্তাব তৈরি করব যা আপনারা যার যার অবস্থান অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য হয়। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে কোনো ভুলবোঝাবুঝি বা বিভ্রান্তি না সৃষ্টি করা এবং সর্বোচ্চ সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানো।’’