ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চুক্তি সই হবে না: নৌপরিবহন উপদেষ্টা

কোনো দেশের সঙ্গে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চুক্তি সই করা হবে না বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন

উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

বুধবার (২ জুলাই) বিকালে সচিবালয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক বৈঠক শেষে

সাংবাদিকদের ব্রিফকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর

পরিচালনার জন্য কোনো চুক্তি হয়নি। বর্তমান সরকার কখনও দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো

চুক্তি করবে না।’

তিনি বলেন, ইউরোপসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর বড় বড় বন্দর আন্তর্জাতিক মানের

কোম্পানিগুলো যেমন ডিপি ওয়ার্ল্ড, এডি পোর্টসের মাধ্যমে দক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের রপ্তানি-আমদানি বাণিজ্যের গতি বাড়াতে চট্টগ্রাম বন্দরের

সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) বন্দরের কার্যক্রমকে

আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কাজ করছে। নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)

পরিচালনা নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তারা এলে বিশ্বের

অন্যান্য বন্দরের মতোই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সিপিএ’র আওতায় কাজ করবে। মালিকানা ও

নিয়ন্ত্রণ থাকবে সিপিএ’র হাতেই।’

সাখাওয়াত হোসেন জানান, আন্তর্জাতিক মানের অপারেটর থাকলে বন্দরের দক্ষতা বাড়বে,

পণ্য খালাসের সময় কমবে এবং বড় জাহাজ আসতে পারবে। এতে নতুন নৌপথ খুলবে এবং পরিবহন

খরচ কমবে।

আরও পড়ুন: চলতি বছরই পার্বত্য চট্টগ্রামের একশ’ স্কুলে ই-লার্নিং চালুর নির্দেশ

প্রধান উপদেষ্টার

তিনি বলেন, বর্তমানে বন্দরে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজার টিইইউএস (কন্টেইনার)

হ্যান্ডলিং হচ্ছে, যা বাড়িয়ে ৬ হাজারে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে। এতে প্রতিবছর

কন্টেইনার পরিবহনে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আসবে।

তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল

(এনসিটি) পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছে

সরকার।

তিনি বলেন, ‘সিপিএ’র অধীনে এনসিটি পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিপিএ অপারেটর

নিয়োগ দেবে। সরকার মনে করে, নৌবাহিনী এই টার্মিনাল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত সংস্থা।

তবে বর্তমানে যারা সেখানে কাজ করছেন, তাদের চাকরি থাকবে। প্রয়োজনে নৌবাহিনী আগের

অপারেটরের সহায়তাও নিতে পারবে।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, বন্দরের কার্যক্রমে সাইফ পাওয়ারটেকের সঙ্গে সরকারের আগের সব

চুক্তি বহাল থাকবে।

এ সময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম

মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরণের চুক্তি সই হবে না বলে জানান নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এম

সাখাওয়াত হোসেন।