লেবাননে চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে সাধারণ জনগণের ব্যাপক প্রাণহানি ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ভারত সরকার তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই আশঙ্কা ব্যক্ত করেন এবং পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভারত যেসব দেশের সৈন্য আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষার মিশন ইউনিফিল‑এ নিয়ে গেছে এবং এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতার অংশীদার হিসেবে বর্তমান ঘটনার গতিপথকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা সম্মান করা অপরিহার্য।”
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর হওয়া ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় ইন্দোনেশিয়া সহ বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার বিশেষ দূত উমর হাদির নেতৃত্বে একাধিক দেশের রাষ্ট্রদূতরা যৌথ বিবৃতিতে এই হামলার প্রতিবাদ জানান।
এই সংঘাতকালে ফ্রান্স, ঘানা, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল ও পোল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের শান্তিরক্ষীরা হতাহত হওয়ার খবর আসে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষ করে তিনজন ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষীর মৃত্যু এবং প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের বাস্তুচ্যুতি বৃহৎ একটি মানবিক সংকট হিসেবে উপস্থাপন করছে। জাতিসংঘের প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, গত ২৯ মার্চ একটি ট্যাঙ্কের গোলায় একজন শান্তিরক্ষী নিহত হন এবং ৩০ মার্চ এক বিস্ফোরক ডিভাইসে আরও দুইজন প্রাণ হারান। যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো প্রকাশ্যে বলেন, শান্তিরক্ষীদের ওপর এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের শ্লঙ্ঘন।
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থির পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু দেশকেই পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতও তাদের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা দিয়েছে। আমিরাতের প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন যে, তারা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নতুন করে মূল্যায়ন করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক-বাণিজ্যিক নীতিও সাজাবেন। তিনি বলেন, জাতীয় অগ্রাধিকারগুলোকে নতুনভাবে বিবেচনা করাই ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণের অংশ।
উদ্ভূত সংকটের মধ্যে ভারত ও অন্যান্য অনেক দেশ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শান্তি ও আন্তর্জাতিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দুর্ভাগ্যগ্রস্থদের জন্য মানবিক সহায়তা এবং শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিচ্ছে।








