ঢাকা | সোমবার | ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১লা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

লোয়াবের দাবি: এলপিজি খাতে ওয়ান-স্টপ সেবা ও ডিজিটাল লাইসেন্সিং জরুরি

এলপিজি খাতের জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও দীর্ঘসূত্রতা উদ্যোক্তাদের কঠোর ভোগান্তিতে ফেলছে বলে অভিযোগ করেছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)। সংগঠনটি বলেছে, এই সংকট মোকাবিলায় ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করা এবং স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল লাইসেন্সিং ব্যবস্থা বাড়তি প্রয়োজন। রোববার (১৭ মে) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ভবনে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এ দাবি ও নানা সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। সভায় বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদসহ খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

লোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় ৭০০টি অটোগ্যাস স্টেশন বিষ্ফোরক হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকলেও অনেকেই বিইআরসির লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালনা করছেন, যা অতি দ্রুত সমাধানের দাবি রাখে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সরকার ২০১৬ সালে প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি কমাতে এলপিজি অটোগ্যাস নীতিমালা প্রণয়ন করলেও তা বাস্তবায়নে সাধারণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাধাগুলি কাটেনি।

আমিরুল হক ব্যাখ্যা করেন, বিষ্ফোরক পরিদপ্তর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ একাধিক দপ্তর পেরিয়ে প্রাথমিক অনুমোদন নিতে গিয়ে প্রায়ই বছরের পর বছর সময় লেগে যাচ্ছে। এই দীর্ঘসূত্রতার ফলে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা তাদের মূল বিনিয়োগের বড় অংশ বিভিন্ন অতিরিক্ত খরচে ব্যয় করছেন, যা ব্যবসাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এলপিজি খাতে প্রায় এক হাজার স্টেশনে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে, যার বেশিরভাগই ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে করা হয়েছে। প্রায় দুই লাখ যানবাহন এলপিজিতে রূপান্তরিত হলেও লাইসেন্সিং জটিলতার কারণে গ্রাহক ও স্টেশন মালিক দুপক্ষেই কঠিন অবস্থার মুখে পড়েছেন। এছাড়া এলপিজি আমদানিতে সিএনজির মতো শুল্ক ছাড় পাওয়া যায় না, কারণ প্রশাসনিক জটিলতা উদ্যোক্তাদের সুবিধা ভোগে বাধা দিচ্ছে। অনেকে অভিযোগ করেন যে চুক্তিবদ্ধ অপারেটররা সময়মতো গ্যাস সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যবসা প্রায় স্থবির হয়ে পড়ছে।

সমস্যা সমাধানে লোয়াব চারটি মূল প্রস্তাব রাখে। প্রথমত, বাস্তবতার আলোকে এলপিজি নীতিমালা সংশোধন করে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ ও হয়রানিমুক্ত করা। দ্বিতীয়ত, একটি কেন্দ্রীয় রেগুলেটরি অথরিটির অধীনে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করা যাতে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াতে না হয়। তৃতীয়ত, উন্নত দেশের মডেলে অটোমেশন導導導 করে ডিজিটাল লাইসেন্সিং চালু করা — যেখানে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাইসেন্স ইস্যু হবে। চতুর্থত, কোনো নির্দিষ্ট অপারেটর এলপিজি সরবরাহে ব্যর্থ হলে স্টেশন মালিককে অন্য অপারেটর থেকে সহজে গ্যাস সংগ্রহের সুযোগ দিতে চুক্তি-শর্ত শিথিল করার অনুরোধ করা হয়েছে।

লোয়াব ও খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে এলপিজি আরও সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে জনপ্রিয় হবে এবং খাতে বিনিয়োগ ও সেবা প্রদান আরও স্থিতিশীল হবে।