ঢাকা | মঙ্গলবার | ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছিলেন আন্দোলন দমন করতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের

একটি ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিং থেকে জানা গেছে, গত বছরের জুলাই মাসে শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ দমন করতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি সরাসরি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই দিয়েছিলেন।

বিবিসি আইয়ের যাচাই করা ওই অডিওতে শেখ হাসিনা তাঁর নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রেকর্ডিং অনুযায়ী, তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘তারা যেখানেই আন্দোলনকারীদের দেখবে গুলি চালাবে।’

অজ্ঞাতপরিচয় এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে ওই কথোপকথন ফাঁস হওয়া অডিওটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা শেখ হাসিনার সরাসরি অনুমতি দিয়েছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর জন্য।

বিবিসি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই গণভবন থেকে এই ফোনালাপটি করা হয় এবং পুলিশ ফৌজদারি তদন্ত বিভাগের ভেরিফিকেশনে ওই কণ্ঠস্বর শেখ হাসিনার সঙ্গেই ম্যাচ করেছে। এছাড়া, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা অডিও তে কোন ধরনের পরিবর্তন বা সম্পাদনা না থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন, যা এটি আসল হওয়ার প্রমাণ দেয়।

ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান বলেছেন, এই রেকর্ডিংগুলো শেখ হাসিনার ভূমিকা স্পষ্ট প্রমাণ করে এবং আন্তর্জাতিক আদালতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন তারা রেকর্ডিংয়ের সঠিকতা নিশ্চিত করতে পারছেন না এবং এতে কোনো বেআইনি বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ নির্দেশের স্বীকৃতি দেননি।

উল্লেখ্য, গত বছর বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন একটি বড় আন্দোলন হয়। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে অন্তত ৫২ জন নিহত হন। বিবিসি আইয়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই দিনের নিহতের সংখ্যা আগের যে তথ্য ছিল তার চেয়ে অনেক বেশী এবং এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ পুলিশি সহিংসতার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিবিসির অনুসন্ধানে পাওয়া ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পুলিশিং বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল এবং আহতদের প্রতি পুলিশের সহিংসতা ঘটিয়েছিল। নিহত আন্দোলনকারী মিরাজ হোসেনের মোবাইল ফোন থেকে পাওয়া একটি ভিডিও তৎক্ষণাৎ গুলিবর্ষণের মুহূর্ত ধারণ করেছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বর্তমানে যাত্রাবাড়ী থানার তখনকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা করা হয়েছে এবং পুলিশ বিষদ তদন্ত শুরু করেছে। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের প্রক্রিয়া দ্রুত চালাতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সরকারবিরোধী এই বিক্ষোভ ও তাতে পুলিশি সহিংসতা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক বিতর্ক এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কঠিন অধ্যায়ের পরিচায়ক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।