সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য উত্থান ধারাবাহিতা চলছে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব মূল্যসূচকই ২ থেকে ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এসময় লেনদেনের পরিমাণে কিছুটা গতি দেখা গেছে, যা বাজারের ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৯টি শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে মাত্র ৫০টির দর কমেছে, বাকিগুলোর দর বেড়েছে। গত সপ্তাহে মার্কেটে বড় ধসের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এর আগে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার কারণে বাজারে বড় দরপতন দেখা দেয় যেখানে এক সপ্তাহের মধ্যে ডিএসইর সূচক প্রায় ৩৫৯ পয়েন্ট কমে যায়। তবে চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার (৮ মার্চ) বড় পতনের পর সোমবার (৯ মার্চ) সূচক কিছুটা উঠে এসেছে। তবে মঙ্গলবার আবারও বেশি উল্লম্ফন হয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দিনের শুরু থেকেই বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত দিনটি বড় উত্থানের মাধ্যমে শেষ হয়। দিনশেষে ডিএসইতে ৩৩৯টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, অন্যদিকে ১৩টির দর কমে গেছে এবং ৩৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
অধিকাংশ শেয়ারের দর বাড়ায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৪৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৯০ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫৮০ পয়েন্ট হয়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচকও ৬৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে এখন ২ হাজার ৩৯০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনশেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৮৭ কোটি টাকা, যা আগের দিন ছিল প্রায় ৪১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক দিনের মধ্যে লেনদেনের পরিমাণে প্রায় ১৭৭ কোটি টাকার বেশি বৃদ্ধি হয়েছে。
লেনদেনের শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংকের শেয়ার, যেখানে কেনাবেচা হয়েছে ৩৭ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেনের মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার, যার পরিমাণ ২১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। তৃতীয় স্থান অধিকার করে ওরিয়ন ইনফিউশনের লেনদেন, যার পরিমাণ ২০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বড় উত্থান দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৩২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮২০ পয়েন্টে। প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ২০৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৯ হাজার ৬৪০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সিএসইতে অংশ নেওয়া ১৭৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩১টির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে, আর ৩২টির দর হ্রাস পেয়েছে। বাকি ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দিনশেষে এই বাজারে লেনদেন হয়েছে মোট ৪৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যা আগের দিনের লেনদেনের চেয়ে কিছুটা কম।








