ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

শেরপুরে দিন দিন বাড়ছে ষাড়ের মই দৌড় খেলার জনপ্রিয়তা

ষাড়ের মই দৌড় প্রতিযোগিতা গ্রামীণ কৃষকদের অন্যতম প্রিয় বিনোদন, তবে নানা কারণে দিন দিন এই ঐতিহ্যবাহী খেলা হারিয়ে যেতে বসেছে। শেরপুর জেলার শুকনো মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে সক্রিয়ভাবে এই খেলার আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর নাগপাড়ায় এই খেলা দেখতে ভিড় জমে কৃষক, যুবক-জবানী থেকে শিশুদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ চোখে পড়ে।

ষাড়ের মই দৌড় শেরপুর জেলার কৃষকদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। শুকনো সময়ে জেলার বিভিন্ন গ্রামে এটি আয়োজন করা হয়, যেখানে হাজার হাজার পুরুষ, নারী এবং শিশু-কিশোর মিলিত হয়ে খেলার আনন্দ উপভোগ করেন।

গ্রাম বাংলার এই প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী খেলাটি অনেকের কাছে নতুন হলেও নতুন প্রজন্ম যেন খেলাটি দেখে আনন্দে মজে ওঠে। খেলা অনুষ্ঠিত স্থানগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ ছড়িয়ে পড়ে। গত ১৯ জানুয়ারি চরশেরপুর নাগপাড়ায় এমন এক জমজমাট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিযোগিতায় একটি মইয়ে চারটি ষাড় থাকে, আর দুটি মই একত্রে দৌড়ায়। যদিও মাঝে মাঝে নির্ধারিত ঘাঁটি থেকে গাড়িগুলো বাহিরে চলে যায়, ফলে আউট বিবেচিত হয়। প্রতিটি মইয়ের সঙ্গে দুইজন মইয়াল এবং তিনজন ধরাল থাকেন। রেফারির সিগন্যাল পেলে ষাড়গুলি একসঙ্গে দৌড় শুরু করে। বিজয়ী দলের উল্লাস এবং দর্শকদের আনন্দ বাতাসে ভাসে। খেলাটি উপস্থাপনকারী মইয়ালরাও খেলার প্রতি গর্বিত হন।

নাগপাড়া এলাকায় প্রথমবারের মতো এ খেলাটি অনুষ্ঠিত হয় গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষায় এবং নতুন প্রজন্মকে এই সংস্কৃতি জানাতে। স্থানীয়দের ব্যাপক আগ্রহের কারণে ভবিষ্যতেও এই ঐতিহ্যবাহী ষাড়ের মই দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজনে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট আটটি মই দৌড় দলের মধ্যে জামালপুর জেলার ইসলামপুর এলাকার চন্দনপুরের হাবু বেপারি দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

খেলাসমাপ্তিতে বিজয়ী এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সফিকুল ইসলাম, উপস্থিত ছিলেন জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব সোহানুর রহমান সাইম, শিক্ষক আসমত আলীসহ আরও অনেকে।

আয়োজক আসমত আলী বলেন, ‘কৃষক, শ্রমজীবী ও সকল মেহনতি মানুষের মধ্যে এই খেলার প্রতি ভালোবাসা রয়েছে, তাই আমরা প্রতিবছর এই খেলাটি আয়োজন করে আসব।’