ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শেরপুরে দিন দিন বাড়ছে ষাড়ের মই দৌড় প্রতিযোগিতার জনপ্রিয়তা

ষাড়ের মই দৌড় প্রতিযোগিতা কৃষকদের অন্যতম প্রিয় ও প্রাচীন একটি খেলা। যদিও নানা কারণে এই খেলা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসেছিল, শেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে শুকনো মৌসুমে এর আয়োজন পুনরায় সজীব হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শেরপুর সদরের চরশেরপুর নাগপাড়া এলাকায় এই খেলায় কৃষকসহ সাধারণ মানুষ আনন্দে মেতে ওঠে।

ষাড়ের মই দৌড় শেরপুর জেলায় কৃষকদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলার মধ্যে অন্যতম। শুকনো মৌসুমে জেলার বিভিন্ন জায়গায় মাঝেমধ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়। যেখানে হাজার হাজার বয়স্ক, যুবক, শিশু-কিশোরসহ সর্বস্তরের মানুষ উৎসাহভরে উপস্থিত হয়।

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খেলা অনেকের কাছে এখনও অচেনা, নতুন দেখলে তারা খুব খুশি হয়ে ওঠে। যেখানে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, সেখানকার পুরো পরিবেশ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। ১৯ জানুয়ারি শেরপুর সদরের চরশেরপুর নাগপাড়া এলাকায় এমনই এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যা এলাকার মানুষের মধ্যে ভীষণ আনন্দ এবং উৎসাহের কারণ হয়।

একটি মইয়ে চারটি করে ষাড় থাকে এবং দুটি মই নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। নির্ধারিত দাগ থেকে যদি ষাড়ের মই বাইরে চলে যায় তবে সেই মইকে আউট ধরা হয়। প্রতিযোগিতায় দুইজন মইয়াল এবং তিনজন ধরাল অংশগ্রহণ করেন। রেফারির বাঁশির সিগনালে মইগুলোর ষাড় দৌড় শুরু করে। বিজয়ী মইয়ের দল আনন্দ উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে এবং চারদিকে হাজার হাজার দর্শক উল্লাসে মুখরিত হয়ে যায়। ময়ালরাও তাদের কাজ করে অনেক খুশি হন।

নাগপাড়া এলাকায় প্রথমবারের মতো এই ঐতিহ্যবাহী খেলাটি আয়োজন করে গ্রামের হারিয়ে যেতে থাকা সংস্কৃতিকে জীবন্ত রাখার এবং নতুন প্রজন্মকে এই খেলা সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের উৎসাহের কারণে পরবর্তীতেও নিয়মিতভাবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

এ খেলায় জেলার বিভিন্ন স্থানের আটটি মই দৌড় দল অংশগ্রহণ করে। জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার চন্দনপুর এলাকার হাবু বেপারি দল চ্যাম্পিয়ন হয়।

খেলা শেষে বিজয়ী এবং অংশগ্রহণ করায়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। সফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব সোহানুর রহমান সাইম, শিক্ষক আসমত আলী সহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজক আসমত আলী জানান, ‘ষাড়ের মই দৌড় খেলার প্রতি কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতী মানুষের অনেক আগ্রহ রয়েছে, তাই আমরা প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতার আয়োজন অব্যাহত রাখব।’