ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন পেসার শফিউল ইসলাম

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অভিজ্ঞ ডানহাতি পেসার শফিউল ইসলাম আজ সব ধরনের ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি তিনি নিজেই সোমবার নিশ্চিত করেছেন। গত ছয় বছর ধরে জাতীয় দলে তার উপস্থিতি কমে গেছে, পাশাপাশি ইনজুরি ও বয়সের বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলা করতে হলেও, তিনি এখন মাঠের ক্রিকেট থেকে বিদায় নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও এই সময়ের মধ্যে জাতীয় দলে তার অবদান কিছুটা কমে গেছে, তবে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন লিগে নিয়মিত খেলেছেন। আজকের এই ঘোষণা তার দীর্ঘ দেড় দশকের পেশাদার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অবসান ঘটলো।

শফিউল ইসলাম ২০০৭ সালের মার্চ মাসে লিস্ট এ ক্রিকেটে তার পথচলা শুরু করেন। দ্রুতই তিনি জাতীয় দলের দলে স্থান করে নেন এবং দলের পেস আক্রমণে একজন অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হন। তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান বেশ প্রশংসনীয়; দেশের জার্সিতে তিনি তিন ফরম্যাট মিলিয়ে মোট ৯১টি ম্যাচ খেলে ১০৭টি উইকেট শিকার করেছেন। তার শেষ আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা ছিল ২০২০ সালের মার্চে, যখন তিনি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। ৩৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার তার ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল গোলগুলোতে বাংলাদেশের জন্য অসংখ্য স্মরণীয় জয় উপহার দিয়েছেন, যা ক্রিকেটভক্তরা সবসময় শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবেন।

শফিউল ক্রিকেটকে এবার বিদায় বললেও, তার সঙ্গে ক্রিকেটের সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করছেন না। ভবিষ্যতে তিনি ক্রিকেটের উন্নয়ন বা অন্য কোনো কারিগরি বিভাগের সাথে যুক্ত হতে আগ্রহী। তিনি জানিয়েছেন, যদি ভালো কোনো সুযোগ বা প্রস্তাব আসে, তবে তিনি অবশ্যই ক্রিকেটের সঙ্গে আবেগের সম্পৃক্ততা বজায় রাখতে চান এবং তার অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের কাজে লাগাতে চান। শফিউলের এই পদত্যাগ বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার সতীর্থ ওভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ভবিষ্যৎ জীবন ও ক্যারিয়ার উন্নতি কামনা করে শুভকামনা জানাচ্ছেন। মূলত শারীরিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বিবেচনায় নিয়েই তিনি এই সময়টিকে তার জন্য অবসর নেয়ার উপযুক্ত সময় বলে মনোনীত করেছেন।