আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপ পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে, যা উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়ার আঘাত ঘটাতে পারে। এর ফলে উপকূলীয় জেলা ও চরগুলিতে এক থেকে তিন ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে।
শনিবার (২৬ জুলাই) সকালেই আবহাওয়া অধিদপ্তর এই তথ্য জানিয়েছে এবং দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তারা আরও বলেছে, নিম্নচাপটি বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে এবং ধীরে ধীরে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে ঝাড়খণ্ডের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বিস্তার রয়েছে রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসাম পর্যন্ত। এই মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে, যা খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় দমকা হাওয়া এবং হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে। রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে।
বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী ও অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
অপরদিকে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন ঝাড়খণ্ডে অবস্থানরত নিম্নচাপ শুক্রবার মধ্যরাতে ওই অঞ্চলে অবস্থান করছিল যা এখনও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্য দেখা দেয় এবং সেখানে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোতে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। এছাড়া, অমাবস্যা এবং নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও নিকটস্থ দ্বীপ ও চরগুলো ১ থেকে ৩ ফুট উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সর্বসাধারণকে সতর্ক করে বলেছে, উপকূলীয় অঞ্চলে এবং সমুদ্র বন্দরের আশেপাশে সবাই যেন সতর্ক থাকে এবং মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।








