ঢাকা | শনিবার | ২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সরকার স্পট মার্কেট থেকে আরও দুই এলএনজি কার্গো কেনার অনুমোদন দিয়েছে

বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশ সরকার স্পট মার্কেট থেকে আরও দুইটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কার্গো কিনবে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুসারে আন্তর্জাতিক কোটেশন গ্রহণ করে এ ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকটি অর্থ উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব পাস করা হয়। দুইটি কার্গোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১,৬৬৬ কোটি টাকা।

অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব কার্গো এপ্রিলে দুই দফায় দেশে পৌঁছবে — ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১০তম কার্গো ২৪–২৫ এপ্রিল এবং ১১তম কার্গো ২৭–২৮ এপ্রিলের মধ্যে সরবরাহ করা হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী এই দুই কার্গো যুক্তরাজ্যভিত্তিক টোটাল এনার্জিস থেকে কেনা হচ্ছে। প্রতি এমএমবিটিইউ (MMBtu) গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯.৭৭ মার্কিন ডলার এবং প্রতিটি কার্গোর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩৩ কোটি ৩৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব স্পট মার্কেটের দামে পড়েছে। এর ফলে বাংলাদেশকে পূর্বের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দামে স্পট সাবসক্রাইব করতে হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের আগে ১১ মার্চ একই কমিটির বৈঠকে তিনটি কার্গো কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল; তখন একটি কার্গোর দাম ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ২১.৫৮ ডলার এবং বাকি দুটি কার্গোর দাম ছিল ২০.৭৬ ডলার। তারও আগে, এক সপ্তাহ পূর্বে, আরও দুই কার্গো কেনার অনুমোদন করা হয়েছিল—যেগুলোর দামের মধ্যে একটি ছিল ২৮.২৮ ডলার এবং অন্যটি ২৩.০৮ ডলার প্রতি এমএমবিটিইউ।

সরকারের লক্ষ্য এই অনিশ্চিত সময়ে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং বাজারে সরবরাহ সংকট এড়ানো, তাই এসব অতিরিক্ত কার্গো আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।