ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সরকারে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা, ৮০ হাজার নারী থাকবেন

দেশের স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী ও সর্বজনীন করার লক্ষ্যে সরকার একটি বিশাল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সর্বজনীন স্বাস্থ্যের পথে’ শীর্ষক সংলাপে এই তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও উন্নত ও সহজলভ্য করতে সরকার ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। এই কর্মপরিকল্পনার মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নারীর প্রবেশাধিকারে, যেখানে মোট পদের মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীই নারী থাকবেন। মূল লক্ষ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বা প্রাইমারি হেলথকেয়ার সিস্টেমকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, দেশব্যাপী ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর প্রক্রিয়া শিগগিরই সম্পন্ন হবে, যা নাগরিকের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সব তথ্য সংরক্ষণ করবে। এর ফলে রোগীদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও সহজ, দ্রুত ও নিখুঁত হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে দেশের চিকিৎসা সেবার মান আরও উন্নত হবে।

তবে, স্বাস্থ্যখাতের বিদ্যমান সমস্যা ও দুর্নীতির বিষয়েও তিনি স্পষ্টভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি স্বীকার করেন যে, অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতি এই খাতের উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, কঠোর তদারকি ও নজরদারির মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে বড় পরিকল্পনাগুলি অযৌক্তিক হতে পারে। এ জন্য তিনি কার্যকর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে কোনো অব্যবস্থাপনা বা দুর্নীতি বিরাজ না করে।

অতিরিক্তভাবে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ অন্যায় ও অস্বচ্ছতাও তিনি তীব্রভাবে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অনেক সরকারি হাসপাতালের দালালাগিরি ও অনিয়মের কারণে রোগীরা অতিষ্ঠ। পাশাপাশি, চিকিৎসকদের উপস্থিতির অভাব ও অপ্রতিকার্য আচরণও সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার এই সব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তিনি জানান, রুগীর সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে এবং চিকিৎসকদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এই বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা ও কাঠামোর পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যযবাবেত প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।