ঢাকা | শুক্রবার | ৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সরকারের লক্ষ্য—শিকলমুক্ত গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো নির্মাণ

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের জনগণের অধিকারের পাশাপাশি সৃষ্টিশীল ক্ষমতাকে সাময়িক শিকলবদ্ধ করার অপচেষ্টা প্রতিরোধে সরকার একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তুলতে চায়। এর মাধ্যমে আলোর পথে এগিয়ে যেতে পারে ভবিষ্যত সময়ের জন্য, যেখানে কেউ আর জাতিকে শিকল পরাতে না পারে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘শিকল ভাঙার জুলাই’ প্রকাশনাবিষয়ক অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিপ্রায় প্রকাশ করেন। এটি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় প্রকাশ করা হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের বয়স এখন ৫৫ বছর ছাড়িয়ে গেছে, তবে বারবার জনগণের কণ্ঠ, অধিকার ও স্বাধীনতাকে শিকলে বাঁধা হয়েছে। এই প্রতিবন্ধকতা ভাঙতে আমাদের countless রক্ত, প্রাণের বিনিময় হয়েছে, দেশকে অনেক সময় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়ার উপক্রম হয়েছে। তবে যারা ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্রের উন্নতি চান, তারা জানেন—যে দেশ ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে পারে, তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা শক্তিশালী হয়।’

অতীতের বিভিন্ন আন্দোলনের সঙ্গে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের মৌলিক পার্থক্য তুলে ধরে স্বপন বলেন, ‘প্রথমে সংক্ষিপ্ত কোন লক্ষ্য ছিল, আন্দোলন করলেই কিছু হবে—এমন ধারণা ছিল। কিন্তু এবার আমরা যখন ফ্যাসিবাদের শিকল ভাঙার জন্য গলা দিচ্ছি, তখনই দেশ গড়ার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই সংগ্রাম জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হলে পুরোনো ব্যবস্থা আর যথেষ্ট নয়। এজন্য আমাদের পদক্ষেপ নিতে হয়েছে রাষ্ট্র কাঠামো ও রাজনীতিতে।

জনপ্রিয় এই মন্ত্রী বলেন, অতীতে রাজনৈতিক আন্দোলনে কোন পরিকল্পনা থাকত না, তা দ্রুতই অন্ধকারে মিলেই যেত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের অভাব দেখা দিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের জন্য নির্বাচিত নেতৃত্ব, বিশেষ করে তারেক রহমানের ৩১ দফার কর্মসূচি—এটাই দ্ব্যর্থহীন সিদ্ধান্ত, যা বাস্তবায়নে সরকার অকুতোভয়ভাবে এগোচ্ছে।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়ে আসা ১৭ বছর স্মরণ করে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘বিগত দশকগুলোতে গণতন্ত্রে ফিরে আসার জন্য যে লড়াই আর আত্মত্যাগের ইতিহাস, সেগুলো আজ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার মূল চালিকা শক্তি। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন ও জনগণের ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধিরা দায়িত্ব নেয়ার বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক জীবনে নতুন দিশা দেখিয়েছে। এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে নেত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে।’

তিনি মরহুম শহীদদের আত্মার শান্তি ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. শাহ আলম বলেন, এই দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির স্মারকগ্রন্থের প্রকাশনা সেই স্মৃতি বারবার মনে করিয়ে দেয়— যারা জেল-জুলুমকে উপেক্ষা করে রাস্তায় ছিলেন, তাদের অভিজ্ঞতা অমূল্য। এটি একটি সময়ের স্বচ্ছ সাক্ষ্য, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।

তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ জানান, গত ১৭ বছরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ে যারা সক্রিয়ভাবে থাকতেন, তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি এই বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে। জুলাইয়ের এই দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আন্দোলনকারীদের অবদান স্বীকৃতি দিতে ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে গুরুত্ব পাবে।