ঢাকা | শনিবার | ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সরবরাহ-উদ্বেগে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লো

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দুই দিন দরপতনের পর আবারও বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান অস্থিরতা ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি বাজারকে প্রভাবিত করেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ সময় অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮১ সেন্ট বা ০.৭৭ শতাংশ বেড়ে ১০৫.৮৩ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম ৯৭ সেন্ট বা ০.৯৯ শতাংশ বাড়ে ও ব্যারেলপ্রতি ৯৯.২৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে। কয়েক দিনের দরপতনের পর বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় আমদানিকারক দেশগুলোর উদ্বেগ বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি শক্তিশালী কারণ কাজ করছে। ইরান ইস্যুতে কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি না হওয়ায় সরবরাহ লাইনে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টির আশঙ্কা বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত উদ্বেগজনক হারে কমে যাওয়ায় তা আন্তর্জাতিক দামকে তাড়া করে তুলেছে। মজুদ হ্রাসের কারণে এখন বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রধান চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে।

এই ঘটনাপ্রবাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান নিয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছে, কোনো চূড়ান্ত ও কার্যকর চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না। হোয়াইট হাউসের এই অনড় অবস্থান তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন কোনো সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়ো করবেন না এবং প্রয়োজন হলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতেও প্রস্তুত।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমন না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজার সম্পূর্ণরূপে স্থিতিশীল হওয়া কঠিন। সরবরাহ ঝুঁকি এবং বড় অর্থনীতির মজুদের অবস্থাই এখন বাজারের মূল চালিকাশক্তি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল হবে কি না।