সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা রকম সমস্যায় জর্জরিত হচ্ছেন। সরকারি ওষুধের অভাব, পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠানো, কমিশন বাণিজ্যের ছড়াছড়ি, হুইলচেয়ার সেবায় অশোভন আচরণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রোগীর হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনা নিয়মিতভাবে ঘটছে। এসব কারণে রোগীরা সঠিক ও মনোমতো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সোমবার হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবায় এই সমস্যা সমূহ চিহ্নিত করতে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাদের উপস্থিতিতে মেডিসিন বিভাগের ওয়ার্ড বয় হরষিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় সরকারি ওষুধ বিক্রি এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ রোগীদের দেওয়া নিয়ে।
সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া এলাকার মোহাম্মদ আলী জানান, ঈদের পরদিন তার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করার সময় ডাক্তার ওষুধের প্রেসক্রিপশন দিলেও সেগুলো সাপ্লাই না থাকার কারণে তাকে বাইরে থেকে ওষুধ এনে দিতে বলা হয়। পরে হাসপাতালের একটি ওয়ার্ড বয় তাকে ওষুধ বিক্রি করে, যা তার দাবি মতে স্বাভাবিক দামের চেয়ে অনেক কম দামে দেওয়া হয়। তার স্ত্রীর শরীরে জ্বালা ও জ্বর দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে জানা যায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের প্র ব্যবহার জনিত ছিল।
ওয়ার্ড বয় হরষিত স্বীকার করেন যে, ছয়-সাত মাস আগে হাসপাতালের আবর্জনা থেকে কিছু ওষুধ উদ্ধার করে তিনি তা বিক্রি করেছিলেন। তদন্তে তার কাছ থেকে পাওয়া ছয়টির মধ্যে দু’টি ওষুধের মেয়াদ ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই শেষ হয়ে গেছে।
অন্য এক অভিযোগকারী আব্দুল গফুর বলেন, ‘‘এখানে কোনো কাজই টাকার বিনিময়ে হয়। পরীক্ষা করাতে টাকা দিতে হয়, হুইলচেয়ারে টয়লেটে নিয়ে গেলে অতিরিক্ত ১০০ টাকা লাগে। সরকারি হাসপাতাল হলেও সব কিছু টাকা দিয়ে হয়।’’
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল এই পরিস্থিতির বিষয়ে জানান, ‘‘আমরা চিকিৎসা ব্যবস্থার এই অনিয়ম নিয়ে বারংবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ডাক্তারদের দায়িত্বে অবহেলা, অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ সমস্যা সমাধানের জন্য চাপ দিয়েছি। ওষুধ সরবরাহ ও বণ্টনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’’
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরতে খোদা বলেন, ‘‘ওষুধ বিক্রির অভিযোগটি আমার জানা ছিল না। আমি চাই, কেউ যদি এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে আসে তাহলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব এবং যিনি এ কাজ করেছেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে।’’
বর্তমানে হাসপাতালের এই দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থার মাধ্যমে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করার দাবি রয়েছে।









