ঢাকা | মঙ্গলবার | ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সালাহ ও মারমৌশের পেনাল্টি মিসে কপাল পুড়ল মিশরের, টাইব্রেকারে জিতে তৃতীয় স্থান হাসিল নাইজেরিয়াক

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে উত্তেজনাপূর্ণ টাইব্রেকারে মুখোমুখি হয়েছিল মিশর ও নাইজেরিয়া। নির্ধারিত সময়ে দুজনের মধ্যে কোনও গোল না হওয়ায় ম্যাচের ধারাবাহিকতা পেনাল্টি শুটআউটের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মিশরের দুই তারকা ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহ ও ওমর মারমৌশের পেনাল্টি শট রুখে দেন নাইজেরিয়ার গোলরক্ষক স্ট্যানলি নোয়াবালি, কিন্তু পরবর্তীতে জোড়া ব্যর্থতায় ৪-২ এক পক্ষপাতিত্ব জয় লাভ করে নাইজেরিয়া। এর মাধ্যমে তারা আফকনের ইতিহাসে নবম বারের মতো তৃতীয় স্থান অর্জন করল, যা একটি গৌরবজনক রেকর্ড।

নাইজেরিয়ার জন্য এই শুটআউট ছিল এক আতঙ্কের নাম। এটাই ছিল সেমিফাইনালে মরক্কোর কাছে হেরেই তাদের জন্য বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার মূল কারণ। তবে এই ম্যাচে তারা ভাগ্যবঞ্চনার শিকার থেকে ফিরে আসে। অনেক প্রত্যাশিত শটের মধ্যে প্রথমে ফিগায়ো দেলে-বাশিরুর নেওয়া শটটি মিশরের গোলরক্ষক আটকে দেন, কিন্তু এরপর অ্যাকোর অ্যাডামস, মোসেস সাইমন ও অ্যালেক্স ইওবি লক্ষ্যভেদ করে দলকে এগিয়ে রাখেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা অ্যাডেমিলা লুকম্যান জয়সূচক গোলটি করে নাইজেরিয়াকে জয়যুক্ত করেন।

অন্যদিকে, মিশর এই রাতটিকে একেবারেই হতাশার করে তোলে। বিশ্বমানের ফুটবল তারকা সালাহ ও মারমৌশের পেনাল্টিতে প্রথম দুই শটই মিস করার কারণে তাদের আশা ভেঙে যায়। আবারো দর্শকদের মন ভেঙে যায় যখন গোলরক্ষক স্ট্যানলি নোয়াবালি পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে টাইব্রেকারে তাদের উত্তেজনা বাড়ান।

ম্যাচের পুরো সময়ে নাইজেরিয়া বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত গোল করতে ব্যর্থ হয়। ৩৬ মিনিটে আকোর অ্যাডামসের জোড়া সহযোগিতায় গোলের সম্ভাবনাও দেখা যায়, তবে ভিএআর পরীক্ষায় দেখা যায়, পলের অনোয়াচু মিশরের হামদি ফাথিকে কনুই দিয়ে আঘাত করে গোল বাতিল করা হয়। দ্বিতীয়ার্ধেরও কিছু গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এইভাবে, নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্র থাকায় ম্যাচ টাই হয়।

প্রসঙ্গত, নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক প্লে-অফে ডিআর কঙ্গোতে হেরে বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙে যায় নাইজেরিয়ার। এরপর মাত্র তিন দিন আগে মরক্কোর কাছে হেরে যাওয়া তাদের জন্য আরও এক হতাশাজনক পর্যায়। তবে এই মিশরের বিপক্ষে জয় তাদের জন্য এক নতুন আশার আলো দেখায়। অবশেষে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে পেনাল্টি জুটির জট কাটিয়ে তারা ইতিবাচক এক ফলাফল নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে সক্ষম হয়।