ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সালাহ-রবার্টসনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে উলভসকে হারিয়ে লিভারপুল এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মাত্র দু’দিন আগেই উলভারহ্যাম্পটনের কাছে হেরে হতাশা ঝেড়ে ফেলতে হয়েছিল লিভারপুলকে। তবে এফএ কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তারা সেই হারকে পরিণত করল জীবনের নতুন এক সম্ভাবনায়। আর্নে স্লটের দলের শিষ্যরা উলভসকে ৩-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। এই জয়ে প্রধান অবদান রাখা খেলোয়াড় ছিলেন স্কটিশ ডিফেন্ডার অ্যান্ডি রবার্টসন, যিনি শুধু একটি গোল করেছেন না, তাঁর নিখুঁত ক্রস থেকে দলের সর্বোচ্চ তারকা মোহামেদ সালাহও একটি গোল করেছেন।

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বিরতির পর ৫১ মিনিটে রবার্টসন দারুণ একটি শটে দলকে এগিয়ে দেন। এটি ছিল ডেডলকের বাইরে থেকে এক শক্তিশালী নিচু শট, যা জালে জড়ায়। সেই ডালিতে দুই মিনিট পরে আবারও দৃশ্যপটে আসেন রবার্টসন; তাঁর ক্রস থেকে মোহামেদ সালাহ দুর্দান্তভাবে গোল করেন। লিড নেওয়ার পর লিভারপুল আরও আক্রমণে সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ৭৪ মিনিটে কার্টিস জোন্স তৃতীয় গোলটি করেন। শেষ মুহূর্তে উলভারহ্যাম্পটনের হোয়াং হি-চান তাঁদের জন্য প্রশান্তির কোমল কিছু যোগান দিলেও, সেটি হারের ব্যবধান কমাতে পারেনি।

ম্যাচ শেষে রবার্টসন বলেন, “গত মঙ্গলবার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে হারের পর আমাদের মনোবল খানিকটা চেপে গিয়েছিল। তবে আজকের ম্যাচের মূল লক্ষ্য ছিল সেই ভুলগুলো সংশোধন করে আরও শক্তিতে ফিরে আসা। এফএ কাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে আমাদের জিততেই হবে। আমি দারুণ খুশি যে, দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে আমরা সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “লিভারপুল সব সময়ই শিরোপার স্বপ্ন দেখে এবং এই জয়ের মাধ্যমে আমরা সেই পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলাম। সালাহর দুর্দান্ত ফিনিশিং ও আমার প্রতিপক্ষের প্রতি নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স দলকে নতুন উৎসাহ দিয়েছে।”

আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই অনুষ্ঠিত হবে। লিভারপুল এখন অপেক্ষায় রয়েছে অন্যান্য প্রতিপক্ষের খেলা নির্ধারিত হওয়ার। বর্তমানে তাদের মূল চ্যালেঞ্জ হলো প্রিমিয়ার লিগ ও অন্যান্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। রবার্টসন মনে করেন, দলের এভাবে সাবলীল ফুটবল খেলতে থাকলে তারা যে কোনও প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ঙ্কর এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠবে। অলরেড ভক্তরা এখন কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে আছেন সেই উত্তেজনাপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের দিকে।