ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সিজিএসের প্রতিবেদন: জুনে ৩২৪টি মিথ্যা তথ্য শনাক্ত, উদ্বেগজনক পরিস্থিতি

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ২০২৫ সালের জুন মাসে মোট ৩২৪টি যাচাইকৃত মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ঘটনাসমূহ শনাক্ত করেছে। এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাংলাদেশে ভুয়া ও মিথ্যা তথ্যের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গতকাল বুধবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিজিএস এই তথ্য প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুন মাসে সিজিএস যে ৩২৪টি মিথ্যা তথ্য শনাক্ত করেছে তার মধ্যে রাজনৈতিক ভুয়া তথ্যের সংখ্যা ছিল ২৫৩টি। এটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে জনমত প্রভাবিত করার জন্য মিথ্যা তথ্য প্রচারের একটি শক্ত প্রচেষ্টা চলছে।

ইয়ছাড়া বিনোদন জগতের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভ্রান্তিকর তথ্য ২৪টি, ধর্মীয় বিষয়ক ১৯টি, অনলাইন বিভিন্ন হোক্স ১৮টি, কূটনৈতিক ৫টি, অর্থনৈতিক ৪টি এবং পরিবেশ সংক্রান্ত ১টি তথ্যও শনাক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, প্রধানত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা মিথ্যা তথ্যের সর্বাধিক লক্ষ্য। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নেতাদের উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে মোট ১২৪টি ভুয়া তথ্য। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৪৮টি, সেলিব্রিটি ২৫টি, ধর্মীয় সংক্রান্ত ১৬টি, রাজনৈতিক দল ১৩টি, সরকারি প্রতিষ্ঠান ১৬টি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৬টি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ২টি এবং ধর্মীয় ব্যক্তিকেন্দ্রিক একটি তথ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

তবে, ৭৩টি ঘটনা অনির্দিষ্ট হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উপর সরাসরি আক্রমণ করা হয়নি; বরং সামগ্রিক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। শনাক্তকৃত ৩২৪টি ঘটনার মধ্যে ৩১৬টি ঘটেছে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, থ্রেডস এবং এক্স (যা পূর্বে টুইটার নামে পরিচিত ছিল) এর মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে। বাকি ৮টি মিথ্যা তথ্য অনলাইন নিউজ পোর্টালে ছড়ানো হয়েছে, যা তথ্যের প্রকৃততা যাচাইয়ের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করছে।

সিজিএসের এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবী, যাতে সত্য নির্ভর সংবাদ পরিবেশন নিশ্চিত করা যায় এবং সমাজে সুস্থ সচেতনতা প্রবাহিত হয়।