ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি হু-হু করে বাড়ছে, ফসলি জমির ক্ষতির আশঙ্কা

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বর্ষণের কারণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাব নিম্নাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নদ-নদীগুলোতেও পরিলক্ষিত হচ্ছে। জেলার সদর, কাজীপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলের বহু গ্রাম প্লাবিত হয়ে ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে ইতোমধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা ফসলের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় দিনের মধ্যে যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহরের রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় ১০৭ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর মেঘাইঘাট পয়েন্টে ১১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর দ্রুত পানি বৃদ্ধির কারণে তীরবর্তী চরাঞ্চলের নিম্নভূমি প্লাবিত হয়েছে, যা ফসলের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামের কৃষক মতিন মোল্লা জানান, ‘‘গত কয়েকদিন ধরে যমুনার পানি দ্রুত বাড়ছে, ফলে আমাদের চরাঞ্চলের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে ব্যাপক ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’’

বাড়াবাড়ি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, উজানের অঞ্চলগুলোর বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং মেঘমালা দেশের উত্তরের দিকে অবস্থান করায় যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, ‘‘এক সপ্তাহ ধরে পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে যমুনার পানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহরের রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে ৪৪ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর মেঘাইঘাট পয়েন্টে ৪৮ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে; সিরাজগঞ্জে ১৯৯ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুরে ২১২ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই আপাতত কোনো বন্যার আশঙ্কা নেই।’’

বর্তমানে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি ও প্লাবনের কারণে এলাকার কৃষকেরা উদ্বিগ্ন, যাদের জন্য বর্ষার এই সময়টি অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত সতর্কতা ও পরিকল্পনামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন যাতে বন্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে এবং ফসলের ক্ষতি কমানো যায়।