ঢাকা | সোমবার | ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৮শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

সীতাকুণ্ডে মহা শীব রাত্রী উদযাপন শুরু শনিবার বিকেলে

সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধামে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু হলো ঐতিহ্যবাহী ‘মহা শীব রাত্রী’ পালনের আনুষ্ঠানিকতা। এই দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী দিন সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চলবে শিব চতুর্দশী তথা শিবের পুণ্যস্নান ও পূজা। প্রতি বছর এই মহা শিব রাত্রীতে লক্ষ লক্ষ সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থী অংশগ্রহণ করেন,। দেশের পাশাপাশি বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকেও এই পুণ্যার্থীরা সংক্ষিপ্ত বা দীর্ঘকালীন ভ্রমণে এসে শিবের দর্শন, স্নান ও পূজা করে এই মহামেলায় অংশ নেন।

আন্তর্জাতিকভাবে বিখ্যাত এই তীর্থস্থান সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ মন্দির। এটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় একশো ফুটের বেশি উপরে অবস্থিত এক মনোরম পাহাড়ের উপর, যেখানে অগণিত পুণ্যার্থী পায়ে হেঁটে উপরে ওঠেন। উপবাস করে এই পবিত্র স্থানটিতে এসে তারা শিবের দর্শন, স্নান, ও পুজা সম্পন্ন করে আবার নিচে নামে। এই মহৎ উপলক্ষের জন্য মন্দিরের আশেপাশে বিভিন্ন পণ্য ও উপহার সামগ্রী বিক্রির জন্য দৃষ্টিনন্দন পসরা সাজানো হয়েছে।

১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা পণ্যপসরা নিয়ে মেলায় সাজিয়েছেন। তবে এই বছর শিব চতুর্দশীর মেলা চলবে পনেরো দিন ধরে, যা শেষ হবে দুলপুর্ণিমার দিন। বিশ্বাস মতে, পুণ্যার্থীরা কুন্ডে পবিত্র জল দিয়ে পরিবার-পরিজনের জন্য পুণ্যস্নান ও শ্রাদ্ধ-তর্পণ করেন। এই প্রাচীন ও প্রামাণ্য তিথিতে প্রায় পাঁচ হাজার বছর ধরে এই সান্ত্বনাপূর্ণ উৎসব পালিত হয়ে আসছে।

শিবের এই মহা উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও আনসার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্বে আছেন। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিতের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর জনগণের মধ্যে সহিংসতা নিয়ে কিছুটা চিন্তা ছিল, যার ফলে এবারের মেলাতে লোকসংখ্যা কিছুটা কম হয়েছে। সাধারণত এই উৎসবে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী অংশ নেন।

সারেজমিনে দেখা যায়, রবিবারের (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিন চন্দ্রনাথ ধামের ব্যাসকুণ্ড, শ্রদ্ধাঙ্গন, ও ভৈরব মন্দিরে পুণ্যার্থীদের প্রচুর উপস্থিতি হয়েছে। ব্রাহ্মণজনেরা ব্যাসকুণ্ডের শ্মশান ও তর্পণ করতে আসছেন, যেখানে মতুয়া ও জেলে সম্প্রদায়ের মানুষজনের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলছে।

পুণ্যার্থীরা সীতাকুণ্ডের মঠ ও মন্দির পরিক্রমা করে স্বয়ম্ভুনাথ ও চন্দ্রনাথ মন্দিরে শিবের মাথায় জল ঢেলে স্নান করছেন। তৃতীয় দিন অমাবস্যা তিথিতে মৃত পুরুষদের জন্য শ্রাদ্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মহামেলার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সীতাকুণ্ডের প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কমিটি সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী তীর্থধাম এলাকায় নিয়মিত আছেন।

সীতাকুণ্ডের স্বয়ম্ভুনাথ মন্দিরের পূজারী দীপক চক্রবর্তি জানান, শিব চতুর্দশী এই বছর রোববার সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে শুরু হয়ে পরের দিন সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২ মিনিটে শেষ হবে। এরপর পরিবার-পরিজনের জন্য শ্রাদ্ধ ও তর্পণের আয়োজন চলবে। মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল বাহাদুর শাস্ত্রী বলেছেন, পুণ্যার্থীরা এই তিন দিনে এই মহা শিবচতুর্দশীতে অংশ নিচ্ছেন। তিনি মনে করেন, এই বছর প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি সনাতনী পুণ্যার্থীর সমাগম হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, সারা মেলা চলাকালীন স্রাইন কমিটির সাথে নিয়োজিত থাকবেন এবং নিরাপত্তা ও মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। আশা করেন, এবারের মেলা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। তিনি আরও জানান, নিরাপত্তার জন্য সকল ব্যবস্থা প্রস্তুত।