ঢাকা | সোমবার | ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২০শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সুন্দরগঞ্জে বসতবাড়ি-ফসলি জমি ঘেঁষে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বসতবাড়ি ও ফসলি জমির ধারে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই অবৈধ উত্তোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মো. শাকোয়াত আলী নামের এক বালুব্যবসায়ী।

ভুক্তভোগী মো. সিদ্দিকুর রহমান ফুল মিয়া (৪৭) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রশেনিয়র প্রতিনিধিদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং পরিবারের ওপর হুমকি বাড়ছে।

সরাসরি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড (চর চরিতা বাড়ি) গুচ্ছগ্রামের কাছেই—প্রায় ১,৫০০ গজ পশ্চিমে তিস্তার শাখা নদীতে একটি ড্রেজার মেশিন বসানো ছিল। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে মেশিন চালকরা মেশিন বন্ধ করে সরে যান।

স্থানীয়রা বলেন, প্রায় এক মাস ধরে ওই স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালু তুলে নেয়ার ফলে নদীর তীর ভেঙে পড়ছে, যা ঘাসফুল, ভুট্টা ও বাদামসহ পার্শ্ববর্তী ফসলি জমি এবং বসতবাড়িকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এ কারণে অনেকেই কথা বলতে রাজি হননি—বালুব্যবসায়ীদের ভয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য এড়িয়ে চলেন তারা।

মো. সিদ্দিকুর রহমান ফুল মিয়া বলেন, “অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ দেখিনি। উল্টো বালুব্যবসায়ীরা আমাকে হুমকি দিচ্ছেন—বলছেন, ঈদে বাড়ি এলে আমার ব্যাপার ‘খারাপ’ করে দেবেন। আমার বসতবাড়ি, ফসলি জমি আর জীবনও এখন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।”

ধুপনী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. সেলিম রেজার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে পর্যবেক্ষণে আছে; এমপি মহোদয় বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন এবং তিনি ইউএনওর সঙ্গে কথা বলেছেন। অভিযোগের কপি হাতে পেলে আমরা ব্যবস্থা নিব—ওসি জানান।

ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল; তবে এটি হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, বাদীকে থানায় লিখিত অভিযোগ করতে বলেছেন এবং থানাকে বিষয়টি নোটিশে আনার নির্দেশ দিয়েছেন।