বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প দ্রুত বিকাশ লাভ করছে এবং বাংলাদেশের জন্য অসাধারণ সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে। ওয়ার্ল্ড সেমিকন্ডাক্টর ট্রেড স্ট্যাটিস্টিকস (ডব্লিউএসটিএস) ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে, ২০২৬ সালে এই শিল্পের মূল্যায়ন ১ দশমিক ৫১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এটি প্রায় ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়নে পৌঁছাবে। এই বৃদ্ধি মূলত এআই অবকাঠামো, উচ্চ ব্যান্ডউইথ মেমোরি এবং উন্নত কম্পিউটিং প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে। বাংলাদশের জন্য এ শিল্পে যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আমাদের তৈরি পোশাকের পরে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর খাত এখন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত হিসেবে উঠছে।
সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন, বাংলাদেশের বিশাল তরুণ এবং মেধাবী জনবল, পরিশ্রমী প্রবাসী পেশাজীবীরা দেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গার্মেন্টস শিল্পের পর, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বাংলাদেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র হতে পারে।
প্রতিবেশী দেশগুলো যেমন ভারত, ভিয়েতনাম উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগে এগিয়ে থাকলেও, বাংলাদেশের লক্ষ্য আরও দূরকარგ্রন্ত। বিডা মনে করে, ২০৩০ সাল নাগাদ সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি বর্তমানের প্রায় ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, তবে এর জন্য দেশের দক্ষ জনশক্তি, গবেষণা ও উন্নয়ন অবকাঠামো উন্নত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার সেমিকন্ডাক্টর খাতকে অগ্রাধিকারমূলক শিল্প হিসেবে বিবেচনা করছে। কর ছাড় ও শুল্ক সুবিধা, প্রণোদনা, এবং স্টার্টআপ ডিজাইন সেবা, এই সব উদ্যোগের মাধ্যমে এই খাতে বিনিয়োগ ও গবেষণাকে উৎসাহিত করছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৩ হাজারের বেশি সেমিকন্ডাক্টর পেশাজীবী রয়েছে যারা মূলত বিভিন্ন উন্নত দেশের কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ও গবেষণায় প্রতিযোগিতার এই যুগে, বাংলাদেশের লক্ষ্য একজন বিশ্বমানের সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। এই লক্ষ্য অর্জনে দেশের নীতিমালা, গবেষণা, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এ লক্ষ্য পূরণের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসিস ও শিল্প জগতও এগিয়ে আসতে চাইছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য এক সম্ভাবনাময় সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন কেন্দ্র চালু, AtmP সুবিধা নিশ্চিত, এবং বিশ্বমানের অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডব্লিউএসটিএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এআই অবকাঠামো, উচ্চ ব্যান্ডউইথ মেমোরি ও উন্নত কম্পিউটিং এই শিল্পকে ২০২৬ সালে ১.৫১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। ভারত ইতোমধ্যে এই খাতে এক হাজার ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আর ভিয়েতনাম লক্ষ্য রেখেছে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ হাজার সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন প্রকৌশলী প্রশিক্ষণের।
বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন আরো সর্তক ও পরিকল্পিত। বিডা ২০৩০ সালের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে এক বিলিয়ন ডলারে উত্তীর্ণ করার জন্য একটি সুসংগঠিত ও দক্ষ সিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছে। এই লক্ষ্য অর্জনে দক্ষতা, গবেষণা, টেস্টিং অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শেষ পর্যন্ত, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, যদি সবাই একসঙ্গে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত হয়।









