ঢাকা | সোমবার | ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সৌদি বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ১০০ কোটি ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য, খাতভিত্তিক পরিকল্পনার দাবি

সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজার থেকে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রোববার (২৪ মে) সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এই আশাবাদ ব্যক্ত করে এবং দ্রুত খাতভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দেয়।

প্রথাগত তৈরি পোশাক খাত ছাড়াও বর্তমানে সৌদি আরবে বাংলাদেশের ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য, পাটজাত পণ্য এবং বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের চাহিদা বিপুল। এসব খাতকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত রপ্তানি বাড়াতে হলে প্রচলিত কৌশলের বাইরে গিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক, আধুনিক ও কার্যকর পরিকল্পনা নেয়া জরুরি বলে প্রতিনিধিদল জানান।

সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরি বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের উজ্জ্বল সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সৌদি আরবের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার বড় পরিসরের রপ্তানি ও বাণিজ্যের সুযোগ রয়েছে। সরকারি সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে ২০২৭ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।”

প্রতিনিধিদলের মতে, সৌদি ভিশন ২০৩০, ওয়ার্ল্ড এক্সপো ও ফিফা বিশ্বকাপের মতো আয়োজনগুলো দেশটিতে শিক্ষা, গ্রিন টেকনোলজি, মরুভূমি বনায়ন, আধুনিক কৃষি এবং ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক অর্থায়নের মতো নতুন ও সৃজনশীল খাতের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সুযোগ ও সক্ষমতা কাজে লাগালে বাজার দখল করা সহজতর হবে।

সরকারও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখা এবং দক্ষ জনশক্তি গঠনে প্রয়োজনীয় সমর্থন প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে। বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “বিদেশে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি প্রতিনিধিত্ব করে; তাই জাতীয় স্বার্থে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সরকার সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে।” তিনি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে আবেদন করেন, কোন খাতে কী ধরনের সহায়তা দরকার—নীতিগত, আর্থিক বা খাতভিত্তিক—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দিতে। এমন প্রস্তাব পেলে সরকার তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও খাতভিত্তিক সহযোগিতা জোরদার করার বিভিন্ন উপায় নিয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন দক্ষ মানবসম্পদকে শিল্প ও ব্যবসায় রূপান্তর করলে মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব আরও শক্ত হয়।