দেশের স্বর্ণবাজারে বৃহস্পতিবার একদিনেই দু’বার দাম পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে, যা গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। সূর্যোদয়ের পর বাজুস (বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন) সকালে দাম কমানোর ঘোষণা দিলেও সন্ধ্যায় এক জরুরি বৈঠকে সেই সিদ্ধান্ত বদলে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বাজুসের প্রাইসিং ও প্রাইস মনিটরিং কমিটির জরুরি বৈঠক আজ সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বর্তমান স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণের নিয়ম গৃহীত হয়। সংশোধিত এই নতুন দর আজ সন্ধ্যা ৭টা থেকেই দেশের সব শাখায় কার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে এবং পরবর্তী দাপ্তরিক নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এ দামই বলবৎ থাকবে।
নতুন লাগু করা মূল্যতালিকা অনুযায়ী ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সকালেই ২২ ক্যারেটের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৬ টাকা রাখা হয়েছিল; ফলে একদিনে দুই দফায় মূল্য ওঠানামা লক্ষ করা গেল।
রূপার বাজারেও সমন্বয় আনা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট অনুযায়ী রূপার প্রতিভরি দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯১ টাকা ধার্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘‘সনাতন’’ পদ্ধতিতে রূপার দাম প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও জরুরি সমন্বয় তাদের নীতির অংশ। ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের দ্রুত ওঠানামা এবং স্থিতিশীলতা না থাকাকে এই হঠাৎ পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
অলংকার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, একদিনে দুইবার এমন উত্থান-পতন বিরল এবং এতে ঝুঁকি-পরিমাণ ও ক্রেতা-বিক্রেতার সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়েছে। সাধারণ ক্রেতারাও হঠাৎ এমন পরিবর্তনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বাজুস অফিশিয়ালভাবে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের স্বার্থ ও ব্যবসায়িক ভারসাম্য বজায় রেখে নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজন হলে আরও সমন্বয় আনা হবে। তবে আপাতত সন্ধ্যা ৭টা থেকে জারি করা নতুন দামই কার্যকর থাকবে।








