ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই সিটি করপোরেশনে টিকা দিলে হাম ও রুবেলার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব

ঢাকা শহরের দুটি মহানগরী—দক্ষিণ ও উত্তরের সিটি করপোরেশনে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা রোগের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশাবাদ। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সম্মেলন কক্ষে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন একথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার আরও সক্রিয়ভাবে টিকাদান কর্মসূচি চালাচ্ছে। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকার দুই সিটিতে যদি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় টিকা প্রদান করা যেতে পারে, তাহলে হাম রোগের বিস্তার অনেকটাই কমে আসবে।

তিনি আরও জানান, ডেঙ্গুর প্রকোপও বাড়তে পারে, তাই সরকারের নজরদারি ও সচেতনতামূলক কাজ অব্যাহত রয়েছে। মানুষের সচেতনতা এই সমস্যার মোকাবিলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় বলে তিনি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন।

এদিকে, ঢাকার কড়াইলের বিভিন্ন ওয়ার্ডে হাম ও রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পে অংশগ্রহণে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম. এ মুহিত উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, “এই জরুরি ক্যাম্পেইন সফল করতে হলে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তবে কেবল রাজনীতিবিদদের ইচ্ছে বা প্রচেষ্টা দিয়ে নয়, সাধারণ মানুষকেও নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকতে হবে।”

ডা. এম. এ মুহিত আরো জানান, ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ করে এই টিকা আবশ্যক। তিনি বলেন, “একই সময়ের মধ্যে ১০০ জনের মধ্যে ৯৫ জন শিশুকেই টিকার আওতায় আনতে হবে, যাতে গোষ্ঠীটির মধ্যে সংক্রমণরোধ সম্ভব হয়।”

গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। আজ থেকে ঢাকাসহ চার মহানগরীতে এই উদ্যোগের প্রথম ধাপ বাস্তবায়িত হয়েছে। ঢাকার দুই সিটিতে প্রায় ১২ লাখ ২০ হাজার শিশু, বয়স ৬ মাস থেকে ৫ বছর, এই টিকার আওতায় আসবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে, সঙ্গে ছুটির দিনগুলোতেও। এর পাশাপাশি, ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে টিকাদান কার্যক্রম চালু হবে।