ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

১৫ বছর ধরে শিকলে বাঁধা মেধাবী ছাত্র রুহুল আমিনের কাহিনি

শিক্ষার্থী সাধারণত লেখাপড়া করে, খেলাধুলায় মনোনিবেশ করে। পাশাপাশি একজন কোরআনে হাফেজ হলে তার দায়িত্ব কেবল বসে থাকা নয়, বরং কোরআন তেলোয়াত ও মাহফিলে অংশগ্রহণ করে মঞ্চ মাতানো। কিন্তু মেধাবী রুহুল আমিনের জীবন সেই স্বাভাবিক পথ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে গেছে। বিধির নির্মম পরিহাসে তিনি গত ১৫ বছর ধরে লোহার শিকলে বন্দি রয়েছেন। এই ঘটনাটি মেধাবী তরুণদের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় আটকে পড়ার এক দুঃখজনক দৃষ্টান্ত।

রূপগঞ্জের জাঙ্গীর এলাকার হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া রুহুল আমিন এক সময় কোরআন হাফেজ ছিলেন। স্থানীয় মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও আজান প্রতিযোগিতায় জেলা স্তরে তৃতীয় স্থান লাভ করেছিল তার। কিন্তু দাখিল পরীক্ষার দুই দিন পর হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে রুহুল আমিন। স্থানীয়রা তার অস্বাভাবিক আচরণ দেখে পরিবারের লোকজন তাকে ১৫ বছর ধরে একটি জরাজীর্ণ ঘরে শিকলে বেধে রাখছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের জাঙ্গীর দারকাবো টেক এলাকার হতদরিদ্র ইদ্রিস আলির চার ছেলের মধ্যে সবার ছোট রুহুল আমিন। বড় ভাই সিএনজি চালক, মেজো ভাই রং মিস্ত্রি, আর সেজো ভাই কাজ করেন স্যানেটারির কাজে। অসুস্থতার কারণে বাবা ইদ্রিস আলি কাজ করতে না পারায় পরিবারে অভাব শুরু হয় এবং চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারছে না।

এলাকাবাসী জানায়, ছোটবেলা থেকেই মেধাবী রুহুল আমিনকে লেখাপড়ার জন্য স্থানীয় ফাজিল মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয় এবং তিনি সফলভাবে কোরআন হাফেজ হন। ২০০৬ সালে জাতীয় শিশু কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় আজানে জেলা পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। তবে ২০১০ সালের দাখিল পরীক্ষার পর অসুস্থ বোধ করে তিনি।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালে পরিবার ও এলাকার সহযোগিতায় তাকে ঢাকায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ২০২১ সাল পর্যন্ত সেখানে চিকিৎসা চলে। যদিও কিছুটা সুস্থতা দেখা দেয়, কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসতে হয়।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন রুহুল আমিনকে ঢাকা তথা যেকোনো সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন এবং এই বিষয়ে অবগত ছিলেন না। রুহুল আমিনের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা পূর্বেই গ্রহণ করা হবে এবং আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন ও এলাকার মানুষদের সহযোগিতা নেওয়া হবে।