মোবাইল ফোন খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বৈধতা বজায় রাখতে দেশের মোবাইল শিল্পের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘোষণা এসেছে। মোবাইল ফোন অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি) দাবি করেছেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) বাস্তবায়ন করতে হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মোবাইল খাতে অবৈধ ও গ্রে মার্কেটের প্রবণতা কমে আসবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় যথেষ্ট বৃদ্ধি পাবে। সংগঠনটির মতে, এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
সংগঠনের উদ্যোগে সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি শফিকুল কবির হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উপস্থিত করা হয়। যেখানে সংগঠনের সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, বর্তমানে দেশে ১৮টি মোবাইল সংযোজন ও উৎপাদন কারখানা রয়েছে, যেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ একত্রিত হয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই কারখানাগুলোর মাধ্যমে মাসে প্রায় ১৫ লাখ স্মার্টফোন ও ২৫ লাখ ফিচার ফোন উৎপাদিত হয়। তদ্ব্যতীত, অবৈধ বা গ্রে মার্কেটের কারণে সরকার বছরে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে, যাদের গ্রে মার্কেটের পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের বিকাশের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
সংগঠনের নির্বাহী সদস্য ও প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, অনেক মহলের দাবি থাকা সত্ত্বেও এনইআইআর চালু হলে ফোনের দাম বৃদ্ধি হবে—এমন দাবি ভিত্তিহীন। বরং এটি চালু হলে হাই-অ্যান্ড ফোন এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের স্মার্টফোন উৎপাদন বাড়বে এবং স্থানীয় বাজারে কম দামে মানসম্মত ফোন পাওয়া যাবে। অন্যদিকে, সিন্ডিকেট বা নতুন কর আরোপের অভিযোগগুলো তাদের ভিত্তিহীন বলছে সংগঠনটি। তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে মোবাইল আমদানিতে ৫৭ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে যা ২০১৯ সাল থেকে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এমআইওবি তাদের নির্বাচিত মন্তব্যে আরও বলেছেন, এনইআইআর ব্যবস্থা চালু হলে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, সাইবার নিরাপত্তা বাড়বে। পাশাপাশি, দেশের জনগণের জন্য বৈধভাবে পুরোনো বা রিফারবিশ ফোন বিক্রি ও ক্রয় সহজ হতে পারে। এটি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংগঠনটি অতীতের মতোই দাবি জানিয়েছে যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে মোবাইল শিল্পের অগ্রগতি এবং বৈধতার জন্য সুস্থ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরিও সম্ভব।









