ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

১৭ বছরে আওয়ামী লীগ বাকশাল তৈরি করেছে দুইবার: ড. আব্দুল মঈন খান

জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিএনপির প্রবীণ নেতা ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, বিএনপি জনগণের দল এবং দীর্ঘ ১৭ বছর যাবত আওয়ামী লীগ দুইবার বাকশাল কায়েম করেছিল। তিনি বলেন, বিএনপি মূলত তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে—সততা, আইনশৃঙ্খলা ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উৎপাদনমুখী রাজনীতি। বিএনপি বিশ্বাস করে ভোট ও গণতন্ত্রের শক্তিতে।

ড. মঈন খান আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের নিপীড়ন সত্ত্বেও বিএনপি কখনো সরে আসেনি; হাজার হাজার নেতা-কর্মী দলীয় অবস্থান মজবুত রেখেছে। এই সময়ে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিয়ে তরুণদের মধ্যে সজাগতা সৃষ্টি করেছেন, যার প্রভাবে ছাত্র-জনতা একসাথে হয়ে সরকারের স্বৈরাচার আমল শেষ করার সুস্পষ্ট প্রমাণ দিয়েছে।

তিনি একই সঙ্গে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশে অনেক রাজনৈতিক দলই পথভ্রষ্ট হয়েছে, তার মধ্যে আওয়ামী লীগ অন্যতম। তাদের করুণ পরিণতি হিসেবে অনেক নেতা দেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যেন দেশের কোনও দল এমন দুর্ভাগ্যের সম্মুখীন না হয়।

রাজশাহীর মোহন পার্কে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির ফরম বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, চলমান সরকার দেশের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করে গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে আনা উচিত। সংস্কার ও বিচার একদিনের কাজ নয়, এটা একটি ধারাবাহিক ও চলমান প্রক্রিয়া। বিগত স্বৈরাচারী সরকার উন্নয়নকে সংবিধানের উপরে উল্লেখ করেছিল যা মিথ্যা এবং আজকের সরকারও যেন সেই পথে না যায়।

তিনি বলেন, বিএনপি আইনের শাসন, মানুষের ভোট ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তারা কখনো নির্দলীয় বা জোরপূর্বক শাসন কবল থেকে সরে আসবে না, কারণ সেটা স্বৈরাচারের পথ। আগামী নির্বাচনে জনগণ সঠিক প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ড. মঈন খান আরও বলেন, বিএনপি রাজনীতিকে মানুষের সেবা হিসেবে গ্রহণ করেছে, যেখানে আলাদা কোন স্বার্থ নয়। আওয়ামী লীগ যেভাবে ব্যবসা দৃষ্টিতে রাজনীতি দেখেছে, বিএনপি তা প্রত্যাখ্যান করে। তিনি নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে দেন যেন তারা কখনো আওয়ামী লীগের মতো ভুল অনুশীলন না করে।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বীরমুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈশার সভাপতিত্বে দলীয় বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত প্রধান বক্তৃতা করেন। এছাড়া মহানগর ও থানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।