অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ৭০তম ইউরোভিশন সংগীত প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো শিরোপা হাসিল করল বুলগেরিয়া। গতকাল শনিবার, ১৬ মে, জমজমাট গ্র্যান্ড ফাইনালে বুলগেরিয়ার প্রতিনিধি দারা তাঁর প্রিয় ডান্স ট্র্যাক ‘ব্যাঙ্গারঙ্গা’ পরিবেশন করে বিচারক ও দর্শকদের মন জয় করেন। পারফরম্যান্সের সময় কোনো রাজনৈতিক প্ররোচনার ছোঁয়া না রেখে কেবল শিল্পীশিল্পীর ভাবেই তিনি সমপূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখেন—অবশেষে সেটিই বুলগেরিয়ার জন্য ইতিহাস রচনা করে।
জয়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে দারা এই মুহূর্তকে ‘‘ভয়ের বিরুদ্ধে ভালোবাসার জয়’’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সংহতির গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তার দৃঢ়তা ও сценার উপস্থাপনা অনেকের কাছে গভীর ছাপ রেখে গিয়েছে।
চূড়ান্ত র্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে ইসরায়েল। তাদের প্রতিনিধি ত্রিভাষিক প্রেমের গান ‘মিশেল’ পরিবেশন করার সময় শ্রোতাদের একাংশের কাছ থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া শোনা গেল। বিচারকদের পয়েন্টিংয়ে ইসরায়েল আশপাশে ছিলেন অষ্টম স্থানে; কিন্তু টেলিভোটে বিপুল সমর্থন পেয়ে তারা দ্রুত উঠে আসে দ্বিতীয় স্থানে—এটাই ছিল দর্শক ভোটের চমক। এছাড়া এবারের আসরে অস্ট্রেলিয়া চতুর্থ এবং ফিনল্যান্ড ষষ্ঠ স্থানে রয়।
সাফল্যের খবরে মিশে ছিল রাজনৈতিক বিতর্কও। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ জানিয়ে কয়েকটি দেশ এইবার আয়োজন থেকে দূরে থাকল। স্পেন, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্লোভেনিয়া তাদের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যমের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা সম্প্রচারণে যুক্ত হয়নি। তার প্রভাব পড়েছে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যাতেও—এবার সেটি নেমে এসেছে ৩৫-এ, যা ২০০৩ সালের পর থেকে সবচেয়ে কম। আন্তর্জাতিক দর্শক সংখ্যাও মনে করা হচ্ছে 지난해 ১৬৬ মিলিয়নের তুলনায় কিছুটা কমে গেছে।
ভিয়েনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কড়া; organisers বড় ধরনের বিক্ষোভ বা বিশৃঙ্খলার সম্ভাব্যতা মাথায় রেখেছিল। বাস্তবে অনুষ্ঠান জুড়ে পরিস্থিতি বেশ শান্ত ছিল, তবে সেমিফাইনালে এক বিক্ষোভকারী প্যালেস্টাইনের পক্ষে স্লোগান দিলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
রাজনীতি ও বিতর্ক বৃথাই রাখতে পারেনি ইউরোভিশনের স্থাপিত সাংস্কৃতিক ও সঙ্গীতমুখী মঞ্চকে। বুলগেরিয়ার এই ঐতিহাসিক জয় সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে নতুন আলোচনা জাগিয়েছে—শৈল্পিক উৎকর্ষতা আর মঞ্চস্থ উপস্থাপনাই শেষপর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে দিয়েছে দলটিকে। ইউরোভিশনের ইতিহাসে এখন বুলগেরিয়ার নাম আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে স্থান পেয়েছে।








