ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান লক্ষ্য গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা: প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম আজ জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো এক অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। নির্বাচন ছাড়াও সরকার সংস্কার ও বিচার উদ্যোগ নিয়েছে, যা সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে এবং আজ ছিল সেই পর্যায়ের প্রথম সভা। সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিষয়ক আলোচনা এবং অভ্যুত্থানের ফলে চলমান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের ধন্যবাদ জানানো।

প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণের পুরো দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে গতকাল আনুষ্ঠানিক পত্র প্রদান করে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, এখন নির্বাচন কমিশন দিনক্ষণ নির্ধারণ করবে এবং তারা নিশ্চিত করবেন নির্বাচনের পরিবেশ হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য।

তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচনে পুলিশের পাশাপাশি আনসার, বিডিআর এবং আর্মি কে আরো বেশি সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার বিষয়ে সরকার গভীরভাবে শ্যোচনা করছে।

গত বছরের খাসমজুদ ছিল ১৮ লাখ টন, এখন তা ২১ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে বলে তথ্য দেন প্রেস সচিব। এছাড়া গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি গত এক বছরে অনেক বেশি স্বাভাবিক হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার সাতটি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে, যেগুলোর ১২১টি প্রস্তাবের মধ্যে ১৬টি বাস্তবায়িত এবং ৮৫টির ওপর কাজ চলমান। বাকি প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন যোগ্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির নাম পরিবর্তন করে গাজীপুর ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ, যা দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ আরও সক্রিয় হয়েছে এবং আর্মিকে ম্যাজিস্ট্রেট পাওয়ার দেওয়া হয়েছে। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ও রিজার্ভ বৃদ্ধির কথাও তিনি জানিয়ে বলেন, চার বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের কাজ তার উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হোক, আর রাষ্ট্রীয় ভাবে তার দেশে ফেরত আনার জন্য চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বিবিসি ও আলজাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী গুলি চালানোর নির্দেশের বিষয়ে তদন্ত চলবে এবং বিচারে প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচন ছাড়াও সংস্কার ও বিচার সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি আরও জানান, আগের জাতীয় নির্বাচনে প্রায় ৮ লাখ ফোর্স মোতায়েন ছিল, এবার ৪০ থেকে ৫০ হাজার বেশি ফোর্স মোতায়েন করা যাবে কি না এবং আর্মির ৬০ হাজার সদস্য মোতায়েনের সম্ভাবনার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব সহকারে ভাবছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত সরকারের গৃহীত ৩১৫টি সিদ্ধান্তের মধ্যে ২৪৭টি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, যা ৭৮.৪১ শতাংশ এবং স্বাধীনতার পর থেকে এটি সবচেয়ে বেশি।

সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে উদ্বেগ আছে বলে জেনেছেন, কিন্তু নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এসব অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে।