ইসরায়েলে ইউক্রেন থেকে চুরি করা শস্য খালাস করার অভিযোগে সংযুক্তরাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলছেন, ইসরায়েলি নেতারা নিশ্চয়ই জানেন তাদের বন্দরে চুরি করা শস্য আনা হচ্ছে এবং তারা কোন কার্গো খালাস করা হচ্ছে তাও জানেন।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আরেকটি শস্যবাহী জাহাজ এখন ইসরায়েলের বন্দরে পৌঁছেছে এবং সেটি খালাসের প্রস্তুতি চলছে। যারা এই চুরির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
মঙ্গলবার মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘চুরিকৃত শস্যের আরেকটি জাহাজ ইসরায়েলের বন্দরে পৌঁছেছে এবং তারা সেটি খালাস করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি বৈধ ব্যবসা হতে পারে না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘ইসরায়েলি নেতারা অবশ্যই জানেন তাদের বন্দরে এমন শস্য আসছে এবং কোন কার্গো খালাস করা হচ্ছে সেটিও তারা জানেন।’
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, প্যানরোমিটিস নামের একটি জাহাজ ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে নোঙর করেছে। হারেৎজ জানিয়েছে, জাহাজটিতে ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চল থেকে আনা শস্য রয়েছে। সূত্রে বলা হয়েছে, এই বছরই ইসরায়েল চারটি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করেছে।
প্রতি উত্তরে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার দাবি করেছেন, এসব শস্য চুরিকৃত—এমন প্রমাণ ইউক্রেন দিতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ইউক্রেন মিডিয়ার মাধ্যমে কূটনীতি করছে।
ইউক্রেনও পিছুটানে নেই। কিয়েভ ওই জাহাজ নোঙর করার ঘটনায় ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে এবং পরে তাকে একটি প্রটেস্ট নোট হস্তান্তর করা হয়েছে। ইউক্রেনীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাহাজটিকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ইসরায়েলের প্রতি আবেদন জানিয়েছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সাইবিয়াহ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি ইসরায়েল ওই জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করে বা জাহাজটিকে বন্দরে থাকতে অনুমতি দেয়, তবে তা দুদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনের গম চুরি করে বাইরে বিক্রি করছে এবং এই চোরাকারবারে রাশিয়ার সঙ্গে কেউ সহযোগিতা করলে তা সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এমনকি সাইবিয়াহ মনে করিয়ে দিয়েছেন, এর আগেও হাইফা বন্দরে চুরি হওয়া পণ্যবাহী জাহাজ নোঙর করেছিল এবং সে সময়ও কিয়েভ ইসরায়েলের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছিল। তবে এবারও যখন আরেকটি জাহাজ নোঙর করল, তখন ইসরায়েন যে পদক্ষেপ নেয়নি তা তাদের জন্য হতবিহ্বল করার মতো।
এ প্রসঙ্গে গিদিয়ন সার এক্সে পাল্টা বার্তা দিয়ে বলেছেন, যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে সেগুলোর সত্যতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ইউক্রেন প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, কূটনৈতিক বিষয়গুলো টুইটার বা মিডিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত নয়—একে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে তুলতেই হবে।
ইউক্রেন ও ইসরায়েলের মধ্যে এই টানাপোড়েন কূটনীতিকি পর্যায়ে তীব্রতায় উঠেছে। ক্ষমতাসীনরা একে অপরের বিরুদ্ধে তথ্য ও নথি চাচ্ছে, আর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবিও বাড়ছে—বিশেষত যখন আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যসুরক্ষা ও শস্যবিক্রয়ের বিষয়টি এত স্পর্শকাতর।








