মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদের পূর্বাঞ্চলীয় ওয়াদি ফিরা প্রদেশে পানি ব্যবহারের অধিকারকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪২ জন নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী লিমানে মাহামাত।
স্থানীয় সময় গত শনিবার সুদান সীমান্তের কাছে অবস্থিত ইগোটে গ্রামে এই সহিংসতা শুরু হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সোমবার (২৭ এপ্রিল) মাহামাত নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেন এবং আহতদের একটি প্রাদেশিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হওয়ার কথা জানান।
মাহামাত বলেছিলেন, পাল্টা হামলার তীব্রতার কারণে সংঘাত দ্রুত একটি বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি এখন তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং অ্যাস্টেবলিশমেন্ট পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে গ্রামে সমঝোতা প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
চাদ মূলত মরুভূমি প্রধান একটি দেশ; এখানে বৃষ্টি কম এবং পানিসংক্রান্ত উৎস সংকীর্ণ। ফলে পানি ও চারণভূমি নিয়ে নৃগোষ্ঠি বা পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রায়ই রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়। গত বছরও দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমে কৃষক ও পশুপালকদের সংঘর্ষে কয়েক ডজন মানুষ নিহত ও শতাধিক ঘরবাড়ি ধ্বংসের খবর পাওয়া গিয়েছিল।
বিশেষত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে; তীব্র খরা ও অস্বাভাবিক তাপমাত্রার ফলে প্রাদেশিক বিভিন্ন পানির উৎস শুষ্ক হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানির কূপ, পাম্প বা পাইপলাইন পর্যাপ্ত না থাকার ফলে সাধারণ মানুষের পানি গ্রহণ ও পশুপালনের অনুষঙ্গ জটিল হয়ে ওঠে; অনেক জায়গায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক গভীর হওয়ায় সাধারণ পাম্প দিয়ে পানি তোলা কঠিন।
আরও একটি চাপ সৃষ্টি করছে প্রতিবেশী সুদানের সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা লক্ষ লক্ষ শরণার্থীর উপস্থিতি। এসব শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার ফলে চাদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে সম্পদ ও খাদ্য নিরাপত্তার উপর অতিরিক্ত বোঝা সৃষ্টি হয়েছে এবং কিছু এলাকায় দুর্ভিক্ষের সতর্কতা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সামরিক বল পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে, তবে পানিসংক্রান্ত বিবাদ ও সম্পদের সংকট মেটাতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও সীমান্ত সংলাপ অত্যাবশ্যক বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতা প্রক্রিয়া চালু করায় একপ্রকার শান্তির চেষ্টা দেখা গেলেও মুনাসিব ও টেকসই সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পুনরায় উত্তেজনা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়ে গেছে।








