জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ হোক্কাইডোতে ৬.২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। জাপানের স্থানীয় সময় সোমবার ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় একই দিন ভোর ২টা ২৩ মিনিটে) এই কম্পনটি আঘাত করে বলে জাপানের আবহাওয়া দপ্তর (জেএমএ) ও মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) নিশ্চিত করেছে।
ভূকম্পনের সূত্রপাত ছিল হোক্কাইডোর দক্ষিণাঞ্চলের সাপ্পোরো শহর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পূর্বে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ৮৩ কিলোমিটার গভীরে। গভীরতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় সুনামি-আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়নি।
জেএমএ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের তাত্ত্বিক ক্ষতির খবর জানা যায়নি। তবু শক্তিশালী ঝাঁকুনোর কারণে হোক্কাইডোর পাহাড়ি এলাকায় বড় পাথর পড়া এবং ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে; তাই স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং জনসাধারণকে নিরাপদে থাকার জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মূল ভূমিকম্পের ঠিক এক ঘণ্টা আগে হোক্কাইডোর দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৫.০ মাত্রার আরও একটি কম্পন অনুভূত হয়। জেএমএ সতর্ক করে বলেছে, আগামী এক সপ্তাহে এই অঞ্চলে একই ধরনের বা আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে।
গত সপ্তাহের সোমবারও হোক্কাইডোর কাছাকাছি নয়—আইওয়াতে—৭.৭ মাত্রার একটি তীব্র ভূমিকম্প ঘটেছিল, যার ঝাপটা রাজধানী টোকিওতেও অনুভূত হয়েছিল এবং কমপক্ষে ছয়জন আহত হয়েছিলেন। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
ভৌগোলিকভাবে ‘রিং অফ ফায়ার’ বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলার ওপর অবস্থিত জাপান ভূকম্পনপ্রবণ একটি দেশ। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১,৫০০টিরও বেশি ভূকম্পন ঘটায় দেশটি এবং বিশ্বের মোট ভূকম্পনের প্রায় ১৮ শতাংশ জাপানে হয়। শক্তিশালী অবকাঠামো ও উন্নত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সত্ত্বেও ঘন ঘন কম্পন সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা বাড়াচ্ছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও জরুরি পরিষেবাগুলি পরিস্থিতি মনিটর করছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সরকারি সূত্রে আপডেট পাওয়া যাবে—নাগরিকদের অনুরোধ করা হচ্ছে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাওয়া বর্জন করতে।








