আগামীকাল সোমবার, সারা দেশের শুল্ক, ভ্যাট ও আয়কর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তিন ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি ও কলমবিরতি পালন করবেন। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলমান এই কর্মসূচি গতকাল শনিবার বিকেলে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার এবং মহাসচিব অতিরিক্ত কর কমিশনার মিজ সেহেলা সিদ্দিকা সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।
এনবিআর-এ যৌক্তিক ও চাপমুক্ত সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ঐক্য পরিষদ দাবি করে, অবিলম্বে এনবিআর চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা উচিত, কারণ তাদের মতে তিনি রাজস্ব সংস্কার কার্যক্রমকে সময়ক্ষেপণ করছেন। এর আগে ওই পরিষদ এনবিআর চেয়ারম্যানকে রাজস্ব ভবনে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছিল। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ১৯ জুন গঠিত একটি কমিটিতে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়নি এবং সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি, যা পরিষদের প্রতি অনাদর হিসেবে তারা বিবেচনা করছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান বিভিন্ন সভায় ঐক্য পরিষদের বৈধতা ও অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন এবং উসকানিমূলক মন্তব্য করার বিষয়টিও পরিষদ নিন্দা জানিয়েছে। গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভায় ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়, যার সভাপতি হন হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার ও মহাসচিব মিজ সেহেলা সিদ্দিকা। এছাড়া রাজস্ব সংস্কার ভাবনার অংশ হিসেবে ‘‘কেমন এনবিআর চাই’’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভার জন্য কক্ষ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করলেও কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি, যা নিয়ে পরিষদ তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে।
২০১৯ সালের ১২ মে সরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠন করে অধ্যাদেশ জারি করে। তারপর থেকে এই অধ্যাদেশের বিরোধিতা করে এনবিআর কর্মকর্তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। গত ২৬ মে সরকার ঘোষণা দেয়, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এনবিআর সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন সম্পন্ন করা হবে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ একটি নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে।
এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের এই আন্দোলন এবং কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে তারা জানিয়েছে, যতক্ষণ না রাজস্ব খাতের সুষ্ঠু ও মৌলিক সংস্কার সম্পন্ন হয়।








